স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামা ও আলীকদম উপজেলার বাসিন্দাদের যোগাযোগের মাধ্যম চকরিয়া ও লামার সীমান্তবর্তী কুমারী বেইলি ব্রিজ। সম্প্রতিক সময়ে চোরেরা ব্রিজের দু’পাশের নাট, বল্টু, র্যালিং খুলে নেওয়ায় এবং ব্রিজের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ার কারণে যে কোনও সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে ব্রিজটি। বর্তমানে এই ব্রিজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে লাল পতাকা উড়িয়ে দিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ।
চকরিয়া-লামা-আলীকদম সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহম্মদ বলেন, ফাঁসিয়াখালী সড়কের কুমারী এলাকায় বেইলি ব্রিজটি নড়বড়ে হয়ে পড়ায় এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে।
জানা গেছে, লামা উপজেলা থেকে ১৫-২০ গজ অদূরে কুমারী বেইলি ব্রিজের সবকয়টি পাটাতন নড়বড়ে হয়ে গেছে। দুই পাশের র্যালিং, নাট ও বল্টু চোরেরা খুলে নিয়ে যাওয়ার কারণে একপাশে হেলে পড়েছে। চলাচল হয়ে পড়েছে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকি নিয়েই পণ্য ও যাত্রীবাহী যান চলাচল করছে প্রতিদিন।
লামা বাজারের ব্যবসায়ী সেলিম সওদাগর বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে কাঁচামাল আনতে এই ব্রিজটি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু এটি নড়বড়ে হওয়ায় বেশি পরিমাণ মাল আনতে পারছি না।’
আরও জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে তৎকালিন এরশাদ সরকারের সময়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয় চকরিয়া-লামা-আলীকদম সড়ক। সড়কটি যোগাযোগ ক্ষেত্রে ব্যাপক সুবিধা দেওয়ায় নজর কাড়ে পর্যটকদের। কিন্তু ওই সড়কের কাজ কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে গিয়ে পাহাড়ি ছড়াখালের উপর স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা সম্ভব না হওয়ায় বসানো হয় বেইলি ব্রিজ। টানা ৩০ বছর এই ব্রিজের ওপর দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। কুমারীসহ ইয়াংছা বাজার সংলগ্ন ব্রিজটিও নড়বড়ে হয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে কুমারী ব্রীজটি।
আলীকদম উপজেলার বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা শুভ রঞ্জন বড়ুয়া বলেন, দুই উপজেলার প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নতুন ভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হোক এই দাবি উঠেছে এলাকায়।
স্থানীয়রা জানায়, লামা-আলীকদম-চকরিয়া সড়কের সকল অস্থায়ী বেইলি ব্রিজ উঠিয়ে পাকা স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে কুমারী ব্রিজটি মেরামত না হলে যানবাহন চলাচল করার সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার পাশাপাশি জেলার সঙ্গে দুই উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে। এতে ভোগান্তিতে পড়বে লামা-আলীকদমের স্থানীয়রা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) বান্দরবান জেলায় কর্মরত উপ-প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউছুপ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি মেরামতের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। অনুমতিসহ বরাদ্ধ পেলেই ব্রিজ মেরামতের কাজ শুরু হবে।
/এফএস/