সাংবাদিক থেকে যেভাবে অস্ত্র ব্যবসায়ী

দৈনিক জাহান ময়মনসিংহের উল্লেখযোগ্য পত্রিকাগুলোর একটি। বহু পুরাতন এ পত্রিকাটির প্রয়াত সম্পাদক হাবিবুর রহমান শেখ ময়মনসিংহের সাংবাদিকতায় আদর্শ ব্যক্তি ছিলেন। হাবিবুর রহমানের মৃত্যুর পর থেকে তার স্ত্রী রেবেকা ইয়াসমিন পত্রিকাটির সম্পাদক পদে রয়েছেন। আর তার ছেলে শেখ মেহেদী হাসান নাদিম ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেকের ভাষ্য মতে রেবেকা ইয়াসমিন স্বামীর আদর্শ অনুসরণ করে পত্রিকার সুনাম বজায় রাখার চেষ্টা করলেও ছেলে মেহেদী কয়েক বছর ধরে বিপথগামী হয়ে উঠেছিলেন।

ময়মনসিংহে বিপুল সংখ্যক অস্ত্রসহ সাংবাদিক আটক

স্থানীয়রা জানান, মেহেদী যখন মাদক সেবন শুরু করেন, তখন তার বাবা জীবিত ছিলেন। তিনি অনেক চেষ্টা করেও সন্তানকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি। পরে মেহেদী বখাটেদের সঙ্গে চলাফেরা শুরু করেন।

তবে পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দাবি, গ্রেফতারকৃত কথিত সাংবাদিক রাসেলের জন্য মেহেদী বিপদে পড়েছেন।

ময়মনসিংহে উদ্ধার করা অস্ত্রের ভাণ্ডার-১

অন্যদিকে ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত শেখ মেহেদী হাসান ওরফে নাদিম (৩২) ও রাসেল মিয়া (২৫) দু’জনই সাংবাদিকতার আড়ালে অস্ত্র  তৈরি ও ব্যবসা  করতেন।

জেলা ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, ময়মনসিংহ শহরের মাসকান্দা বিসিক এলাকা’র দৈনিক জাহান পত্রিকা কার্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের ভেতরেই মেহেদী হাসানের বাড়ি। ওই বাড়িতে অস্ত্র তৈরির কারখানা আছে বলে জানতে পারে ডিবি। এরপর গত শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ডিবির একটি দল বাড়িটি ঘেরাও করে। পরে রবিবার ভোর ৫টার দিকে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি চায়নিজ রাইফেলের যন্ত্রাংশ ও চারটি গুলিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র পাওয়া যায়। এ ছাড়া অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এসময় আটক করা হয় পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শেখ মেহেদী হাসান ওরফে নাদিম (৩২) ও রাসেল মিয়া (২৫)।

ময়মনসিংহে উদ্ধার করা অস্ত্রের ভাণ্ডার-২

এ ব্যাপারে রেবেকা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেহেদী কিছুটা বিপথগামী ছিল, ঠিক। তবে সে বাড়িতে অস্ত্র তৈরি করার মতো পাকা ছিল না। পত্রিকার সুনাম নষ্ট করতে কেউ আমাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করতে পারে।’

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. ইমারত হোসেন গাজী বলেন, এ ঘটনায় ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, দোতলা বাড়িটির ওপরের তলায় থাকত মেহেদী হাসানের পরিবার। আর নিচতলায় আনুমানিক দেড় বছর ধরে অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে । যেসব দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, তা কোনও পেশাদার অস্ত্র তৈরির কারিগর ছাড়া সম্ভব নয় বলে অনেকের ধারণা। এক্ষেত্রে আসলেই বাড়ির ভেতর দেশীয় অস্ত্র তৈরি করা হতো নাকি বাইরে থেকে আনা হয়েছে তা তদন্ত করছে পুলিশ।

ময়মনসিংহে উদ্ধার করা অস্ত্রের ভাণ্ডার-৩

এলাকাবাসীর সঙ্গে সোমবার কথা বলে জানা গেছে, মেহেদী মাদকাসক্ত থাকলেও অস্ত্র ব্যবসা করতেন, তা তাদের জানা ছিল না। তবে গ্রেফতারকৃত অন্য সাংবাদিক রাসেল দুষ্টু প্রকৃতির ছেলে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান।

তারা আরও জানান, সন্ধ্যার পর রাসেলের সঙ্গে অপরিচিত লোকজন চলাফেরা করতো। মাসকান্দা এলাকার বখাটে ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে রাসেলের সখ্যতা ছিল। অন্যদিকে পত্রিকা অফিসে মিনি অস্ত্র তৈরির কারখানা থাকার বিষয়ে দৈনিক জাহানের সাংবাদিক ও কর্মচারীরা হতবাক। তারা সবাই আতঙ্কগ্রস্ত। তাই কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

সরেজমিনে মাসকান্দা এলাকায় গিয়ে জানা যায়, মেহেদীর চলাফেরা ছিল রহস্যজনক। তবে মেহেদী ওরফে নাদিম মাদক সেবন করে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রায়ই খারাপ আচরণ করতেন। তবে স্থানীয়রা অনেকেই গ্রেফতারকৃত রাসেল সন্ত্রাসী ছিল বলে জানালেও এর বাইরে আর কিছু বলতে রাজি হননি।

/জেবি/টিএন/