মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানায় পুলিশি নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আদালতের নির্দেশে ১১ জানুয়ারি সোমবার দুপুরে সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মৌলভীবাজারের এডিশনাল এসপি দেবব্রত সিংহ চৌধুরী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পিবিআই পরিদর্শক মো. আব্দুল্লাহ, পরিদর্শক মো. আতিকুর রহমান, উপ-পরিদর্শক মো. বশির মোল্লা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মানবকণ্ঠের শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি এম ইদ্রিস আলী, যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী বুলেট, নয়া দিগন্তের শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য এম এ রকিব, আলোকিত বাংলাদেশ জেলা প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য সৈয়দ ছায়েদ আহমদ, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশনের শ্রীমঙ্গল শাখার সভাপতি আফসার আহমদ ছবদর প্রমুখ।
অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন, দৈনিক জনতা, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পাতাকুঁড়ির দেশ পত্রিকার স্থানীয় সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলামকে ২৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে আটক করা হয়। পৌর এলাকার ক্যাথলিক মিশন রোড থেকে সাদা পোশাকে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আবদুল জলিলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাকে আটকের পর থানায় নিয়ে নির্যাতন চালায়।
পরদিন ২৪ এপ্রিল বিকেলে গাড়িতে পেট্রলবোমা হামলা এবং পুলিশ অ্যাসল্টের ২টি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
সাংবাদিক সাইফুল পুলিশী নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে কারাভোগের ৩৮দিন পর জামিনে মুক্ত হন।
সাইফুলের অভিযোগ, ওই সময় ‘শ্রীমঙ্গল থানার ওসির বিরুদ্ধে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ’ শিরোনামে ২২ এপ্রিল দৈনিক জনতা ও সাপ্তাহিক পাতাকুঁড়ির দেশ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ওসি আব্দুল জলিল ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে আটক করেন। আটকের পর ওসির নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে থানায় রেখে সারারাত হাত-পা চোখ বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালায়। পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
পরে ১৩ মে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনায় সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রুমি বেগম মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওসি আবদুল জলিলকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত মৌলভীবাজার ডিবি পুলিশকে তদন্ত করে ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
৩০ আগস্ট মৌলভীবাজার ডিবি পুলিশের এসআই মো. রশিদ উদ্দিন এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার পর ২১ নভেম্বর মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ ডিসেম্বর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. বাহাউদ্দিন কাজী পিবিআই মৌলভীবাজারকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
/জেবি/এইচকে/