ডোমারে পিডিবির ভূতুড়ে বিলে দিশেহারা কৃষক

নীলফামারীবিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ভুয়া বিল তৈরিতে দিশেহারা নীলফামারীর ডোমারের কৃষক। কৃষকদের অভিযোগ, মিটারে ব্যবহৃত ইউনিটের চেয়ে অতিরিক্ত বিলের কাগজ কৃষকের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সরেজমিনে কৃষক ও পিডিবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ সব তথ্য জানা গেছে।
জোড়াবাড়ি ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান (৭০) বলেন, ‘আমার ডিজিটাল মিটারে দুটি সেচ সংযোগ রয়েছে। ৩৭৯৪/বি হিসাব নম্বরের বর্তমান মিটার রিডিং রয়েছে ১০৫২ ইউনিট। সেখানে আমার কাছে বিল এসেছে ৬ হাজার ইউনিট। অপরদিকে ৮১০৭ হিসাব নম্বরে মিটার রিডিং ৩ হাজার ৭০০ ইউনিট ব্যবহার হলেও পিডিবি কর্তৃপক্ষ বিল করেছে ৯ হাজার ৪০০ ইউনিট।
একই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম তার সেচ সংযোগটি বিচ্ছিন্নের আবেদন করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমার সেচ সংযোগের সচল মিটার অনুযায়ী ১২৩১ ইউনিট ব্যবহার হলেও আমার নামে বিল করা হয়েছে ৬ হাজার ইউনিটের। এ ব্যাপারে ডোমার অফিসে বার বার যোগাযোগ করেও কোনও সমাধান পাইনি। ফলে বাধ্য হয়ে ১১ হাজার ১৫ টাকা পরিশোধ করে ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর সংযোগটি বিচ্ছিন্নের আবেদন করেছি।’ এমন ঝামেলায় এবারের সেচ মৌসুমে বোরো আবাদ থেকে বিরত থাকবেন বলে জানান তিনি।

একই ইউনিয়নের বসুনিয়া পাড়া গ্রামের রশিদুল ইসলাম (৫০) বলেন, গত মৌসুমে আমার মিটারের ১৮শ’ ইউনিটের মধ্যে ১৫শ’ ইউনিটের বিল পরিশোধ করি। এরপর সংযোগ বন্ধ ছিল। এখন ৩শ’ ইউনিটের বিল সর্বোচ্চ আটশ টাকা হতে পারে। কিন্তু এখন শূন্য ইউনিট ব্যবহার দেখিয়ে ১৮০০ টাকার বিল দিয়েছে। অভিযোগ করলে সেটা সংশোধন করে দিতে চেয়েছে, কিন্তু দিচ্ছেন না ।’

খাটুরিয়া গ্রামের সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন (৭৫) বলেন, ‘তারা কোনও দিন মিটার দেখেন না। অফিসে বসে তাদের ইচ্ছামত বিল করেন।’

ডোমার বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন জানান, ডোমার পিডিবি কার্যালয়ের আওতায় ডোমার- ডিমলা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার (আংশিক)  মিলে ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এরমধ্যে সেচ পাম্প ও ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার।

তিনি বলেন, ‘সেচপাম্প ও ক্ষুদ্র শিল্পের গ্রাহক মিটার দেখার দায়িত্ব উপ-সহকারী প্রকৌশলীর। এখানে তিনজন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর স্থলে দায়িত্ব পালন করছেন একজন। এ কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে। ভুয়া বিল সব ক্ষেত্রে না, কিছু কিছু হতে পারে। তবে গ্রাহকরা যেভাবে অভিযোগ করছেন সেটা সম্পূর্ণ সত্য না। গ্রাহক বেশি বিলের অভিযোগ  দিলে আমরা সেটি যাচাই করে সমন্বয়ের ব্যবস্থা করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে দুইজন মিটার রিডারের পদে একজনও নেই। পিস রেটে ৭ জন মিটার রিডারের কাজ করছেন। লাইনম্যানের ৬টি পদের মধ্যে আছেন ২ জন, অফিস সহকারীর ৪টি পদের মধ্যে আছেন ২ জন, নাইট গার্ডের ৩ পদে ১ জন এবং ৩ জন পিয়নের পদে কর্মরত আছেন ১ জন।

/আরএ/