টিকা নিতে মানুষের ঢল, পুলিশের লাঠিপেটায় আহত ৩

করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজের টিকা বন্ধের সময়সীমা নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই সাভারের টিকা কেন্দ্রে মানুষের ঢল নেমেছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের সময় পুলিশের লাঠিপেটায় তিন স্বাস্থ্যকর্মী আহত হয়েছেন বলে উপজেলা স্বাস্থ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়াও ধাক্কাধাক্কির কারণে টিকা নিতে আসা আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সাভার হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টিকা বন্ধ ঘোষণার কারণে সকাল থেকেই কেন্দ্রে মানুষ জড়ো হতে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকা নিতে আসা মানুষের উপচে পড়া ভিড় হলে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হ্যান্ডমাইকে সবাইকে শান্ত থাকতে বলে। তবে এরপরও টিকা নিতে আসা লোকজন কেন্দ্রের ভেতরে জোর করে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় ভিড়ের মধ্যে পড়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে তিন স্বাস্থ্যকর্মী আহত হন। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

টিকা নিতে আসা পৌর এলাকার বাসিন্দা সুমি আক্তার জানান, সকাল ৯টার দিকে তিনি আসেন। তবে কেন্দ্রে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় দাঁড়িয়ে থেকে অনেক ভিড়ের মধ্যেই তিনি টিকা নেন।

টিকা নিতে আসা মানুষের ভিড়তবে নাজমুল নামে অপর এক যুবক জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রে আসেন। তবে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অবশেষে টিকা না নিয়েই বাড়ি ফিরবেন। ভিড়ের মধ্যে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়। এ সময় পুলিশও লাঠিপেটা করে।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সায়েমুল হুদা জানান, সকাল থেকে কেন্দ্রে টিকা নেওয়ার জন্য হাজার হাজার মানুষ এসেছেন। পুলিশ ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে লাঠিপেটা করলে তাদের তিন কর্মী আহত হন। পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে। যারা এসেছেন সবাইকে টিকা দেওয়া হবে বলার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।

তিনি সবাইকে বিশৃঙ্খলা না করে আন্তরিক হয়ে টিকা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।