রোজার আগে নীলফামারীর পাইকারি বাজারে সবজির যথেষ্ট সরবরাহ থাকলেও খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে। বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। ওই বাজারে প্রতি কেজি সজনে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। সবজির এমন চড়া দামে বাজারে গিয়ে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের।
জেলা শহরের কিচেন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, বরবটি, পটল, করলা, সজনে, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, টমেটো, লাউ, গাজর, শিম, আলু, মরিচ, পেঁয়াজ সবকিছুর দাম বেড়েছে। শিম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, করলা পাইকারিতে ৫০ টাকা এবং খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, বরবটি ও পোটল পাইকারিতে ৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। প্রতিটি চাল কুমড়া ৩৫ টাকা, লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৩০ টাকা, ধনেপাতা পাইকারিতে প্রতি কেজি ৩৫ টাকা আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা। ভোক্তারা জানান, পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে গেলেই ইচ্ছেমতো দাম হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জেলা শহরের বড় বাজারে সবজি বিক্রেতা ইলিয়াস আহমেদ জানান, দেশি পেঁয়াজ ৮ টাকা বেড়ে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়। কাঁচা মরিচ পাইকারি বাজারে কেজি ৩৫ টাকা কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। লেবুর হালি ১০ টাকা বেড়ে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা।
এ ছাড়া, শুকনো মরিচ সকালে পাইকারিতে প্রতি কেজি ৩২০ টাকায় কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা। দেশি আদা পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ আর খুচরা বাজারে ৭০ টাকা। হলুদের কেজি পাইকারি ১৮০ টাকা, খুচরা ২০০ টাকা।
জেলা শহরের নিউ বাবুপাড়ার বাসিন্দা ও হোটেল কর্মচারী অহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রোজা শুরুর আগেই সবজির যা দাম তাতে মানুষ কী খেয়ে রোজ থাকবে। বুট, চিনি, সয়াবিনের দামও অনেক বেশি।’ তিনি রোজার আগেই এসব জিনিসের দাম কমানোর দাবি করেন।
কিচেন মার্কেটে সবজি কিনতে এসে নিউ বাবুপাড়ার গৃহিণী আলেয়া বেগম বলেন, ‘ডাল ও শাক-সবজিরও দাম চড়া, তাহলে হামরা বাঁচি কেমন করি।’
জেলা শহরের বড় বাজারে মুদি দোকানদার মো. আবু সাঈদ মিলন বলেন, ‘গত একমাস থেকে সয়াবিন চড়া দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ বিভিন্ন কোম্পানি খোলা সয়াবিন প্রতি ড্রামে ২-৩ কেজি করে কম দেয়। এক ড্রামে ১৮৬ কেজি ৩০০ গ্রাম তেল থাকার কথা থাকলে সেখানে পাওয়া যায় ১৮৩ কেজিরও কম। তাই পরিবহনসহ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চড়া দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
জেলা প্রশাসনের মাকেটিং কর্মকর্তা এটিএম এরশাদ আলম খান বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’