উদ্ধার হয়নি স্বর্ণ ও সরকারি অস্ত্র

৪৯ দিনেও আটক হননি এএসআই রফিক

বেনাপোলে বিপুল পরিমাণ সোনার বার উদ্ধারের পর তা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়া এএসআই রফিকুল ইসলাম রফিককে ৪৯ দিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি তার সঙ্গে থাকা সরকারি অস্ত্রটিও এখনও ফেরত দেননি তিনি। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলারও কোনও অগ্রগতি নেই। শাস্তির বদলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মধ্যস্থতা করে তিনি দেশের অন্য কোনও থানায় পোস্টিং নিয়ে চাকরি করছেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

পুলিশ জানায়, ১৩ ডিসেম্বর বেনাপোল বন্দর থানার এএসআই রফিক বেনাপোল সীমান্তের রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের সামনে থেকে বিপুল পরিমাণ সোনার বারসহ রেজাউল ইসলামকে (২৮) আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। স্বর্ণসহ রেজাউলকে আটক করে থানায় নিয়ে এসে এএসআই রফিক বিপাকে পড়েন। ঊর্ধ্বতন কোনও কর্মকর্তা রফিকের এই অভিযানের দায় নিতে চাননি। কারণ, সোনা উদ্ধারের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

রফিক দাবি করেন, ১৩ টি সোনার বার উদ্ধার হয়েছে। যা কেউ বিশ্বাস করেনি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এএসআই রফিক থানায় আসামি রেখে আসছি বলে সোনার বার ও সরকারি অস্ত্র নিয়ে চম্পট দেন। এদিকে, এএসআই রফিকের আটক সোনা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খন্দকার শামীম বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। বন্দর থানায় দায়ের করা মামলাটি ওসি অপূর্ব হাসান নিজেই তদন্ত করছেন।

এএসআই রফিককে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলা হলেও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বেনাপোল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ১৩টি সোনার বার নিয়ে এএসআই রফিক পালিয়েছেন। এ ঘটনায় বন্দর থানায় ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। রফিকের নামে বরাদ্দকৃত অস্ত্রটি তার ড্রয়ারে আছে কিনা সেটি জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এএসআই রফিকের ড্রয়ার ভাঙার জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে সোনাসহ আটক রেজাউল ইসলামকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তার আগে রেজাউল আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে সোনা চোরাচালানের বিষয়টি স্বীকার করেন।

ঘটনার ৪৯ দিন পরও এএসআই রফিককে ফিরে পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও জিডি করা হয়নি থানায়।

/এসটি/টিএন/