খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির এপ্রিল মাসের সভায় প্রধান অতিথি খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বলেছেন, ‘সমাজে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ বেড়ে গেছে। এর পেছনে মাদকের প্রভাব রয়েছে। মাদক নির্মূলে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’ রবিবার সকালে জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে তার সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান স্কুল-কলেজ এলাকার দোকানে সিগারেট বিক্রি বন্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার বলেন, ‘মাদক চক্রের শক্ত নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য পুলিশ অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। মাদকের বিস্তারের কারণে সমাজে অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।’ তিনি মাদক, সন্ত্রাস, চুরি, ধর্ষণ ও নাশকতা নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, ‘করোনায় মৃত্যুহার বর্তমানে শূন্যতে নেমে এসেছে। একই সময়ে করোনার শনাক্তের হারও কমেছে। খুলনা বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ মিলে মোট ৪২ লাখ ২৬ হাজার সাতশ’ ৩০ জনকে করোনা ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমায় স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক পরার বিষয়ে অবহেলার সুযোগ নেই। মসজিদসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাস্ক পরতে হবে।’
সভাপতির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘মাদক নির্মূলের জন্য টাস্কফোর্স গঠন করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।’ মাদকের মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারি আইনজীবীদের আরও কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দেন জেলা প্রশাসক। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য-সামগ্রী অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি বন্ধে মনিটরিং জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পুলক কুমার মণ্ডল সভায় বিগত মাসে খুলনা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এ সময় জানানো হয়, খুলনা জেলায় গত মার্চ মাসে ১৫৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা গত ফেব্রুয়ারি মাসের চেয়ে ৩২টি বেশি। খুলনা মহানগরী অধিক্ষেত্রে মার্চ মাসে ১৪৫টি মামলা দায়ের হয়েছে যা বিগত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়ের হওয়া মামলা থেকে পাঁচটি কম।
সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তাসহ কমিটির অন্য সদস্যরা অংশ নেন।