শীতে জবুথবু বাঘা শিশু সদনের ১৬৯ এতিম, সহায়তায় এগিয়ে আসেনি কেউ

এতিমখানাটির প্রতিষ্ঠাতা শামসুদ্দিন সরকার ও তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসামাঘের তীব্র শীতে কাঁপছে সারা দেশ। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ছিন্নমূল মানুষের জীবনযাত্রা। শীতের তীব্রতা এসব মানুষদের বেকায়দায় ফেলেছে সবচেয়ে বেশি। শীতবস্ত্র না থাকায় ঠাণ্ডায় কাঁপতে হচ্ছে তাদের। অনেকে আবার সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে শীতবস্ত্র সংগ্রহ করে পেয়েছেন কিছুটা স্বস্তি। তবে বাঘায় অবস্থিত পল্লী চিকিৎসক শামসুদ্দিন সরকারের শিশু সদনের ১৬৯ এতিম এক টুকরো গরম কাপড়ের জন্য এখন ব্যাকুল। কনকনে ঠাণ্ডায় জবুথবু হয়ে থাকা এসব কোমলমতি শিশুদের দুর্দশায় সাহায্যের হাত বাড়ায়নি কেউ। ফলে বিপাকে পড়েছেন এতিমখানার পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সরকার শমেস।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের সরেরহাট গ্রামে গড়ে উঠেছে ‘সরেরহাট কল্যাণী শিশু সদন’ নামের এই এতিমখানা। মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সরকার শমেস ও তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসার যৌথ প্রচেষ্টায় এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দুজন মানুষের গভীর ভালোবাসায় এখানে ঠাঁই মেলে ১৬৯ জন এতিমের। এর মধ্যে ছেলে ১১৮ জন ও মেয়ে ৫১ জন। আয় বলতে মেহেরুন্নেসার সেলাইয়ের কাজ ও পল্লী চিকিৎসক শমেস তার রোগী দেখার আয় থেকে আসা অল্প কিছু অর্থ। ৩১ বছর ধরে পৈতৃক জমি বিক্রি করে এতিমদের রক্ষা করে চলেছেন তারা। এ থেকে এতিমদের মুখে দু’বেলা ডাল-ভাত তুলে দিতে পারলেও শীত নিবারণের মতো পর্যাপ্ত পোশাক দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সরকার শমেস বলেন, ‘এতগুলো মুখে খাবার তুলে দিতেই অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। এসবের ব্যবস্থা করতে গিয়ে নিজের বসতভিটা পর্যন্ত বিক্রি করেছি। স্ত্রী মেহেরুন্নেসা শিশুদের দেখাশুনা ও তাদের জন্য রান্নার ব্যবস্থা করেন। এর বাইরে তাদের জন্য শীতবস্ত্রের ব্যবস্থা করার মতো সামর্থ্য আমার নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারিভাবে অনেকে শীতবস্ত্র পেলেও এতিমদের খোঁজ কেউ রাখে নি। এমন শীতেও তাদের গরম কাপড় কিনে দিতে পারছি না। এতিমদের নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। গত বছর শীতে তাদের জন্য কিছু সুয়েটার দেওয়া হয়েছিলো, কিন্তু এবার তারা সেটাও পায় নি। অনেকের কাছে সাহায্য চেয়েছি কিন্তু সাড়া পায়নি।’

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারিভাবে উপজেলায় এক হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় সরকারিভাবে শীতবস্ত্র বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। এগুলো এলে এতিমদের জন্য ব্যবস্থা করা হবে।’

/আরএ/