রাজশাহীতে নাশকতার মামলায় জামায়াত-বিএনপির ১৫ নেতাকর্মীর যাবজ্জীবন

নাশকতার মামলায় সিরাজগঞ্জের এক শিবির নেতাসহ জামায়াত ও বিএনপির ১৫ নেতাকর্মীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক গোলাম আহমেদ খলিলুর রহমান এ রায় দেন।

এছাড়া ১৩ জনকে ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাস সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে ৩২ জনকে।

এ মামলার প্রধান আসামি মিজানুর রহমান খোকসাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি। আদালত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আদালতমামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১১ ডিসেম্বর আসামিরা নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ফকিরতলা এলাকার একটি বেইলি ব্রিজের তিনটি পাটাতন উপড়ে ফেলে। এসময় আসামিরা  কয়েকটি ককটেল ও হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
এ ঘটনায় ওই দিনই সদর থানায় মামলা করেন থানার এসআই ফারুক হোসেন। মামলার এজাহারে ৪০ জন আসামি থাকলেও ২০১৪ সালের ৩ জুন অভিযোগপত্রে আসামি করা হয় ৬০ জনকে। ২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর মামলাটি রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে রায় প্রকাশের সময় ৩৫ জন আসামি উপস্থিত ছিলেন। আর  যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র একজন।
যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া আসামিরা হলেন, সিরাজগঞ্জ সদর থানার চক ব্রক্ষণগাঁতী গ্রামের মিজানুর রহমান, খলিশাকুড়া গ্রামের কাইউম মুন্নি, খলিশাকুড়া খিচুড়ি পাড়া গ্রামের মোকলেসুর রহমান, রিয়াজ হাসান রাজু, চন্দ্রকোণা গ্রামের চাঁন মিয়া শেখ, শাহ আলম, চর ছনগাছা গ্রামের সুমন, হামিদ, ঘোড়াচড়া এলাকার মোমিন, আমলাপাড়া এলাকার আবু সাইদ সুইট, নতুন ভাঙাবাড়ি দক্ষিণপাড়া এলাকার সবুজ, জারিলা পোড়াবাড়ি এলাকার আনিসুর রহমান, পূর্ব মোহনপুর এলাকার আব্দুল আলিম ওরফে ডাকাত আলিম, বাবু ওরফে ডাকাত বাবু, ধানবান্ধি জেসি রোড এলাকার মোতালেব ওরফে তালেব। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হামিদ রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এন্তাজুল হক বাবু এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম ও পারভেজ জাহেদি।

/বিটি/টিএন/