শরীয়তপুর সদর উপজেলায় হামলা চালিয়ে নিজ দলের কর্মীর হাতের কবজি কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বিনোদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুল হামিদ সাকিদারের (৫৮) বিরুদ্ধে। সোমবার (৬ জুন) জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবু অনল কুমার দে জানিয়েছেন, অভিযোগ ওঠার পর গত শনিবার তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় আহতের নাম মোহাম্মদ হোসেন হাওলাদার (৪২)। তিনি বিনোদপুর ইউনিয়নের বাছারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় ও মামলাসূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রোগী দেখে বাড়ি ফিরছিলেন হোসেন। পথে বাছারকান্দি পৌঁছালে হামিদের বাহিনী হোসেনের ওপর হামলা করে। এ সময় হামলাকারীরা তার ডান হাতের কবজি কেটে কুপিয়ে জখম করে সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়। তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে হোসেনকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালে পাঠান।
বর্তমানে হোসেন গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় শনিবার রাতে আহত হোসেনের স্ত্রী লাইলী বেগম আব্দুল হামিদ সাকিদারসহ ১০ জনকে আসামি করে পালং থানায় একটি মামলা করেন।
আহত মোহাম্মদ হোসেন হাওলাদারের স্ত্রী বলেন, ‘হামিদের হুকুমে তার বাহিনী আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে ডান হাতের কবজি কেটে দিয়েছে। হামিদসহ সব আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক পদ থেকে হামিদকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হামিদের মোবাইল ফোনে বারবার কল করেও যোগাযোগ পাওয়া যায়নি।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘স্বামীর ওপর হামলার ঘটনায় স্ত্রী লাইলী বেগম মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে হামিদের সঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কুদ্দুস মুন্সী এবং সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার খানের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছিল। অভিযোগ পাওয়া গেছে তারই ধারাবাহিকতায় প্রায় এক সপ্তাহ আগে হামিদের সমর্থকরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আহত হন। তাদের অনেকেই শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় একটি মামলাও রয়েছে।