সালিশে জোর করে বিয়ে, প্যানেল মেয়র কারাগারে

জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত এক চিকিৎসককে সালিশের মাধ্যমে জোর করে বিয়ে দেওয়া, হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলায় নাটোরের সিংড়া পৌরসভার ২নং প্যানেল মেয়রকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। নাটোর কোর্ট ইন্সপেক্টর নজমূল হক ও সিংড়া থানার ওসি নূর এ আলম সিদ্দিকী জানান, মঙ্গলবার বিকালে গ্রেফতারের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  

ওই প্যানেল মেয়রের নাম মিজানুর রহমান। তিনি সিংড়া পৌরসভার উত্তর দমদমা সর্দারপাড়ার মুক্তাদুর রহমানের ছেলে ও পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

জানা যায়, ২০২০ সালে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ও এক নারীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করার দাবি করে স্থানীয় কিছু লোকজন। পরে কাউন্সিলর মিজানুর রহমান তাৎক্ষণিক সালিশি বৈঠক করে তাদের বিয়ে দেন। পরে ওই ঘটনাকে জোর করে হুমকি-ধামকি দিয়ে বিয়ে পড়ানোর দাবি করে ওই চিকিৎসক বিয়ে অস্বীকার করেন। এরপর ওই নারী বাদী হয়ে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণের মামলা করেন। এদিকে ওই চিকিৎসকের মা বাদী হয়ে কাউন্সিলরসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, হুমকিসহ নানা অভিযোগে সিংড়া আমলি আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিলে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সাঈদ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা দেন।

সিংড়া থানার ওসি নূর এ আলম সিদ্দিকী জানান, আদালতের আদেশের ভিত্তিতে কাউন্সিলর মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কোর্ট ইন্সপেক্টর নজমূল হক জানান, আদালত ওই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মিজানুরের স্ত্রী নিলুফা বেগম জানান, ওই চিকিৎসকের অনৈতিক ঘটনার সালিশ করার কারণে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

তবে ওই চিকিৎসক জানান, তাকে এই ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে। কাউন্সিলরসহ আসামিরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে প্রাণনাশের হুমকিসহ চাঁদা দাবি করলে তার মা মামলা করেন।