নাটোরে সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বাড়িতে হামলা

নাটোরনাটোরে সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এসময় সন্ত্রাসীরা প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি ভাঙচুর, তার দুই মেয়ের গায়ে হাত তোলার পাশাপাশি স্বর্ণালংকার লুট ও কেয়ারটেকারকে পিটিয়ে আহত করে। তার দুই জামাতাকেও মারধর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই হামলার ঘটনায় বুধবার সকালে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।  সাবেক প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বুধবার দুপুরে পৌর যুগলীগের সদস্য রেদোয়ান সাজ্জাদকে এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে। রেদোয়ানসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও আট-দশজনের কথা উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে।  
সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান ভাঙচুরের ঘটনা স্বীকার করে জানিয়েছেন, হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে।
মামলায় আহাদ আলী সরকার অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ৬/৭ জনের একটি সন্ত্রাসী দল শহরের জেলে পাড়ায় তার বাড়িতে এসে গেটে দায়িত্বরত কেয়ারটেকারের কাছে প্রতিমন্ত্রীর খোঁজ করতে থাকে। প্রতিমন্ত্রী বাড়িতে নেই শুনে তারা কেয়ারটেকার বাবু শেখ এর কাছে প্রতিমন্ত্রীর মোবাইল ফোন নম্বর চায়। কেয়ারটেকার ফোন নম্বর দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তারা তাকে মারপিট করে ও গেট দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। বাড়িতে প্রবেশের কারণ জিজ্ঞেস করায় তারা প্রতিমন্ত্রীর মেয়ে মৌসুমী ও মুক্তাকে মারপিট করে তাদের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। হাতের চুড়ি, গলার চেন ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে দেয়। এ সময় সাবেক প্রতিমন্ত্রীর দুই জামাতা মাজহারুল ও আশরাফুলকেও মারধর করা হয় ও তাদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা।
হামলার সময় বাড়ির লোকজন চিৎকার করতে থাকলে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। তাদের আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী আসতে থাকলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে বাড়িতে ডাক্তার ডেকে আহতদের চিকিৎসা করা হয়। 

আওয়ামী লীগ নেতা আহাদ আলী সরকার জানান, তিনি দলীয় কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন। মোবাইল ফোনে তার স্ত্রী তাকে সন্ত্রাসীদের হামলার কথা জানালে পুলিশ সুপারকে তিনি বিষয়টি অবহিত করেছেন।

পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জী জানান, হামলার খবর পেয়ে সদর থানার ওসি’র নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল।

সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলা নেওয়া হয়েছে। হামলাকারী দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।

/এফএস/টিএন/