মামলার বাদী সিংড়া উপজেলার শোয়াইর গ্রামের মাছ চাষী নূরে আলম রিংকু দাবী করেন, এ ঘটনায় তার প্রায় চার লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন উপজেলার রামানন্দ-খাজুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক খন্দকার সাইফুল ইসলাম জিন্নাত, শোয়াইর গ্রামের মৃত জমির প্রামানিকের ছেলে জাহেদুল প্রামানিক, মৃত তছলিম সরদারের ছেলে হেলাল সরদার, জাহেদুল প্রমানিকের ছেলে আরিফুল ইসলাম চঞ্চল এবং মৃত কাদের প্রমানিকের ছেলে আব্দুল মালেক।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলার সিংড়া থানায় দায়ের করা মামলায় নূরে আলম রিংকু অভিযোগ করেন, সরকারি নিয়ম মেনেই গত বছর ১৬ মার্চ শোয়াইর গ্রামের চার বিঘা দুই শতকের একটি সরকারি জলকর তিন বছরের জন্য তিনি লিজ নেন তিনি। এরপর ওই জলাশয়ে মাছ চাষ করতে গেলে বাধা দেন আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম জিন্নাত ও অন্য আসামিরা। এসময় তারা বলেন যে, মাছ চাষ করতে হলে তাদেরকে এক লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। তিনি তাদের অনুনয়-বিনয় করে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে মাছ চাষ করতে থাকেন। সম্প্রতি তারা আবার এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাদের দাবি করা চাঁদা পরিশোধ করতে অপারগতা জানানোর পর তারা হুমকি-ধামকি দিয়ে চলে যায়।
নূর আলম আরও দাবি করেন, এরই ধারাবাহিকতায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত শনিবার (৩০ জানুয়ারি) গভীর রাতে তার লিজ নেওয়া জলাশয়ে বিষ ঢেলে তার প্রায় চার লাখ টাকা মূল্যের ৬০ মণ মাছ লুট করে নিয়ে যায়। রবিবার সকালে তিনি পুকুরে গিয়ে অবস্থা দেখে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। সুস্থ্য হওয়ার পর তিনি এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ পাঁচ জন এবং অজ্ঞাত আরও ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার দুপুরে সিংড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জিন্নাত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পূর্ব বিরোধের কারণেই নূর আলম তার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ করেছে যা সত্য নয়।
সিংড়া থানার ওসি নাসির উদ্দিন মন্ডল মামলার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এফএস/