একজনের সাক্ষ্যেই উদঘাটিত সাইদুর হত্যা রহস্য

বগুড়াবগুড়ার শেরপুরে সাইদুর রহমান (৩৫) নামে এক স্বাস্থ্য পরিদর্শককে হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। মাদক সেবন নিয়ে বিরোধের জের ধরে নেশারত অবস্থায় তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন আসামি মাহবুব। বুধবার বিকালে তিনদিনের রিমান্ড শেষে আসামি মাহবুবুর রহমান সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
শেরপুর থানার ওসি খান এরফান জানান, উপজেলার উলিপুর পাড়ার আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে সাইদুর রহমান সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার খাসরাজবাড়ি ইউনিয়নের স্বাস্থ্য পরিদর্শক ছিলেন। গত ২২ জানুয়ারি বিকালে বাড়ি থেকে বের হবার পর আর ফিরে আসেননি। পরদিন সকালে দামুয়া গ্রামের একটি শিম খেতে তার গলা কাটা ও মাফলার দিয়ে মুখবাঁধা লাশ পাওয়া যায়। তার বাবা শেরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে বগুড়ার সিনিয়র এএসপি (বি-সার্কেল) গাজিউর রহমান সাগর এ হত্যা রহস্য উদঘাটন ও ঘাতকদের গ্রেফতারে অনুসন্ধান শুরু করেন। সোর্স ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘাতকদের চিহ্নিত ও তাদের অবস্থান নিশ্চিত হন। ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের ধর্মগ্রামের মাহবুবকে গ্রেফতার করে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাইদুর রহমানকে হত্যার কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেন।
মাহবুব তার দেওয়া স্বীকারোক্তিতে আরও জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ আগে হেরোইন সেবন নিয়ে পলাশ নামে এক মাদকসেবীর সঙ্গে সাইদুরের বিরোধ হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে সাইদুরকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এ অনুযায়ী তাকে সহায়তা করতে টাকা ও মাদকের বিনিময়ে মাহবুবসহ কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নেয়। গত ২২ জানুয়ারি ঘটনার দিন সাইদুরকে হেরোইন সেবনের লোভ দেখায় পলাশ। তাকে মোবাইল ফোনে সন্ধ্যাবেলা দামুয়া গ্রামে আসতে বলা হয়।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাইদুর ও পলাশসহ আটজন একসঙ্গে বসে নেশা করে। এরপর পলাশ ও তার সঙ্গীরা প্রথমে মাফলার দিকে সাইদুরের মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর অন্যদের সহযোগিতায় তাকে হত্যা করে পলাশ। মৃত্যু নিশ্চিত করার পর সাইদুরের লাশ ফেলে পালিয়ে যায় তারা।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শিশির নামে আরেকজনকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকালে স্বীকারোক্তি শেষে মাহবুব ও শিশিরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি জানান, পলাশসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

/জেবি/টিএন/এইচকে/