যশোরের ঝিকরগাছায় ডাকাতিকালে নৈশপ্রহরীকে হত্যার ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেফতার এবং ১২ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, গত ১৩ আগস্ট দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ডাকাতরা ঝিকরগাছা বাজারের চার নৈশপ্রহরীকে মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে ও হাত বেঁধে একটি দোকানের তালা কেটে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ব্যাটারি নিয়ে যায়। মুখে স্কচটেপ পেঁচানোর কারণে নৈশপ্রহরীদের মধ্যে আব্দুস সামাদ (৬০) নামে একজন মারা যান।
ঝিকরগাছার হত্যাসহ ডাকাতি সংঘটনের আগে ও পরে যশোর শহরের উপশহর এলাকায় যুব উন্নয়নের গেট সংলগ্ন জনৈক টিটো সিকদারের ‘সিকদার মটরস’ এবং বকচরে ‘মেসার্স কর্ণফুলী ট্রেডার্স’ নামে একটি টায়ারের দোকান থেকে প্রায় ৫৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করে ডাকাতদল।
পুলিশ সুপার আরও জানান, এসব ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে ডিবি পুলিশের একটি টিম তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত দলকে শনাক্ত করে। ডাকাত দলের সদস্যরা লুণ্ঠিত মালামালের ভাগ-বাটোয়ারা করতে বরিশালে একত্র হলে সেখান থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি সংঘটনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক (ঢাকামেট্রো-ড-১৪-৩৩১৪) উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল উদ্ধার, ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত স্কচটেপ, মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
আটকদের যশোরে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বিকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
আটককৃতরা হলো– বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার উত্তমপুর গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে শাওন ইসলাম সোহাগ (২২), বিহারীপুর গ্রামের কাঞ্চন তালুকদারের ছেলে শামীম তালুকদার (৩৭), ইব্রাহিম খানের ছেলে শহিদুল খান (৪২), নন্দপাড়া গ্রামের কবির মোল্লার ছেলে মাসুম মোল্লা (২৭), বীরাদ্দন গ্রামের ফজলু হাওলাদারের ছেলে সবুজ হাওলাদার (২০), পটুয়াখালী সদর উপজেলার শেখহাটি গ্রামের লোকমান মৃধার ছেলে মাহাতাব মৃধা (২০), সিরাজ খাঁর ছেলে রিয়াজ খাঁ, বদরপুর গ্রামের শাহাজাহান শিকদারের ছেলে সোহাগ সিকদার (২৮), খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর গ্রামের ইমদাদুল শেখের ছেলে রাসেদুল ইসলাম রাসেল (২৭), বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলার জিবদাড়া গ্রামের মৃত সোবাহান খানের ছেলে এনামুল খান (২৮), বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার শ্যামপুর গ্রামের মোক্তার শিকদারের ছেলে শিপন সিকদার (২৮) এবং বানারীপাড়া উপজেলার বড় চাউলকাঠি গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে এমাদুল ইসলাম (৩৪)।