নারায়ণগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম নাসিম ওসমান তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু উদ্বোধনের পর প্রথম দিনে এক লাখ ৪৪ হাজার ৮৬০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। সোমবার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চার হাজার ৪৪৮টি যানবাহন থেকে এই টোল আদায় করা হয়েছে।
এর আগে, সোমবার দুপুরে রাজধানীর কার্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সেতুর উদ্বোধন করেন। সেতু উদ্বোধনের পর সারাদিন টোল উন্মুক্ত ছিল। রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে টোল আদায় শুরু করা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদফতর নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানা ফেরদৌস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সেতু উদ্বোধনের পরে মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে নির্ধারিত হারে টোল আদায় শুরু হয়েছে। ৮ ঘণ্টা করে তিন শিফটে টোল আদায় হচ্ছে। রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রথম শিফটে ৪শ’ ৪১টি যানবাহন থেকে ১৮ হাজার ৪শ’ ৪০ টাকা, সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দ্বিতীয় শিফটে এক হাজার ৬৩ যানবাহন থেকে ৪০ হাজার ৫শ’ ৪৫ টাকা এবং বিকাল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত তৃতীয় শিফটে দুই হাজর ৯শ’ ৪৪টি যানবাহন থেকে ৮৫ হাজার ৮শ’ ৭৫ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে। তৃতীয় শিফটে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। এ ছাড়া মালবাহী ভারী ট্রাক চলাচল করছে।’
মোটরসাইকেল আরোহী মিজানুর রহমান বলেন, ‘সেতু চালু হওয়ায় খুব সুবিধা হয়েছে। এখন নিতাইগঞ্জের বাজারে যেতে নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হতে হয় না, সেতুতে মাত্র ১৫ টাকা টোল দিয়ে অল্প সময়ে চলে এসেছি।’
ট্রাকচালক শাহ জামাল মিয়া বলেন, ‘আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঘুরে নিতাইগঞ্জ যেতে হতো। এতে প্রায় সময় যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হতো। কিন্তু এখন শীতলক্ষ্যা সেতু দিয়ে অল্প সময়ে যেতে পারছি।’
উল্লেখ্য, এক হাজার ২শ ৩৪ দশমিক ৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ২২ দশমিক ১৫ মিটার প্রশস্ত এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬শ’ ৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২শ’ ৬৩ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে এবং ৩শ’ ৪৫ দশমিক ২০ কোটি টাকা সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) থেকে এসেছে। ছয় লেনের এই সেতুর চারটি লেনে চলবে দ্রুতগতির যান, বাকি দুটি দিয়ে চলবে রিকশা-সাইকেলের মতো ধীরগতির বাহন। পায়ে হেঁটে যাতায়াতের জন্যও ফুটপাত রয়েছে।
শীতলক্ষ্যা সেতুটি বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জ এবং পশ্চিমে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সৈয়দপুরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফলে বন্দর উপজেলার লাখ লাখ জনগণ এই সেতু ব্যবহারে সুফল পাবে। একই সঙ্গে পদ্মা সেতু দিয়ে যাতায়াত করা দক্ষিণাঞ্চলের লোকজনও মুন্সীগঞ্জ হয়ে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু দিয়ে মদনপুর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যেতে পারবে। ফলে রাজধানীর ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ শহরের ওপর যানবাহনের চাপ কমে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সেতুতে বিভিন্ন যানবাহনে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে: হেভি ট্রাক ৬২৫ টাকা, কন্টেইনারবাহী ট্রাক ৫০০, দুই এক্সেলবিশিষ্ট ট্রাক অথবা বাণিজ্যিক ব্যবহৃত ট্রাক্টরের টোল ২৫০, চালক ব্যতীত ৩১ আসনবিশিষ্ট মোটরযানের টোল ২২৫, তিন টন যানবাহন ১৯০, কৃষিকাজে ব্যবহৃত যানবাহনের জন্য টোল ১৫০, মিনিবাসের জন্য ১২৫ ও মাইক্রোবাসের জন্য ১০০ টাকা, ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারের জন্য টোল ৬৫ টাকা, সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-থ্রি হুইলারের টোল ২৫ টাকা, মোটরসাইকেল টোল ১৫ টাকা, প্যাডেলচালিত রিকশা ও বাইসাইকেলের জন্য টোল ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।