সমাবেশে আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ বিএনপির

চট্টগ্রামে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশস্থলে আসার সময় নেতাকর্মীরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বেশ কিছু স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা এই হামলা ও মারধরের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করছেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. সারওয়ার উদ্দিন সেলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আওয়ামী লীগের লোকজন হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। যাতে কেউ সমাবেশে না যায়। সমাবেশে যারা যাবে তাদের উপজেলায় আর ঢুকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দিয়েছেন মীরসরাই আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।’

তিনি বলেন, ‘মীরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট বাজারে দুই হিঙ্গুলি বিএনপির আহ্বায়ক কাজী সালেহ আহমেদ, পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিনের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছেন আওয়ামী লীগের লোকজন। বুধবার সকাল থেকে এলাকায় তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারা দিচ্ছে। বিএনপির লোকজন যাতে সমাবেশ না যায় সে জন্য আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তারপরও সকাল থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেছেন।’

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক উপ-দফতর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে অনেক বাড়িতে পুলিশ তল্লাশির নামে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মহাসমাবেশে আসার পথে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। তাদের বহনকারী কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখলেও পরিবহন মালিক সমিতি আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়ি দিতে রাজি হয়নি। নগরীতেও আওয়ামী লীগের লোকজন গায়ে পড়ে ঝগড়া লাগানোর চেষ্টা করছে। আমরা এসব কিছুতে কান দিচ্ছি না। সবকিছুর পরও সমাবেশ সফল করা হবে।’

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আলমগীর নূর বলেন, ‘দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে চলে এসেছেন। প্রতিটি জেলা থেকে নেতাকর্মীরা বাধা অতিক্রম করে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসছে।’

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক উপ-দফতর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘সকালে চট্টগ্রামে আসেন সমাবেশের প্রধান অতিথি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য অতিথিরা। দুপুর ২টায় তারা সমাবেশস্থলে যাবেন। তার আগেই পরিপূর্ণ হয়ে যাবে পলোগ্রাউন্ড ময়দান।’ 

এই সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর (উত্তর ও দক্ষিণ), কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করছেন। এর আগে ১০ বছর আগে ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভা করেছিল বিএনপি। সেই সভায় প্রায় ১৫ লাখ লোকের সমাগম হয়েছিল বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবি করেন। আজকের এই জনসভায় আরও বেশি লোকসমাগমের আশা করছে দলটি।

অভিযোগের বিষয়ে কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আশা করছি, শেষ পর্যন্ত কোনও ধরনের অঘটন ছাড়াই সমাবেশ শেষ হবে। অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’