খুলনায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩৭ জন মেডিসিন বিভাগের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রবিবার দুপুরে এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা গেছেন। যা চলতি ডেঙ্গু মৌসুমে খুলনায় প্রথম রোগীর মৃত্যু।
জানা যায়, রবিবার দুপুরে খুলনায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুলিয়া বেগম (৫৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলা সদরের দুলিয়া বেগম গত ১৪ অক্টোবর ডেঙ্গু নিয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি ওই এলাকার মো. আলমের স্ত্রী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চলতি ডেঙ্গু মৌসুমে ১৬৪ জন ভর্তি হন। এর মধ্যে ১২৮ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে ৩৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ৩৭ জনের মধ্যে ৫ জন খুলনার বাসিন্দা এবং বাকি ৩০ জনের বাড়ি বিভিন্ন জেলায়।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন-১ ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. অনল রায় বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীকে সাধারণত জ্বর থাকার ৪ থেকে ৫ দিন দিনের বেলায় মশারি টাঙিয়ে রাখতে হয়। এ হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড না থাকায় মেডিসিন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা চলছে। তাদের সার্বক্ষণিক মশারি টানিয়ে রাখা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে কোনও এডিস মশা ওই রোগীকে কামড়ানোর পর আবার সুস্থ মানুষকে কামড়ালে তার (সুস্থ মানুষ) ডেঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেদিকে আমরা লক্ষ রাখছি।’
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ব্লাড ব্যাংকের মেডিক্যাল অফিসার ডা. জিল্লুর রহমান তরুণ বলেন, ‘এই হাসপাতালের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগ অনস্টপ সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। এখান থেকে রক্তের অত্যন্ত মূল্যবান ফ্যাক্টরগুলো বিনামূল্যে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ব্লাড সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সরকার নির্ধারিত অত্যন্ত কম মূল্যে এখানে করা হয়। তবে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা প্লাটিলেট দিতে গেলে সেল সেপারেটর মেশিন বা আরও উন্নত অনেক মেশিন বের হয়েছে, যা আমাদের নেই। এখানে মেশিন দেওয়া হলে আমরা ডেঙ্গু রোগীর পাশাপাশি আরও অনেক রোগের রোগীদের বিশেষায়িত সেবা দিতে পারবো।’
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রবিউল হাসান বলেন, ‘হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার তিন গুণের বেশি রোগী থাকে। বারান্দা করিডোরসহ কোথাও এমন জায়গা নেই যেখানে রোগী নেই। এই অবস্থার মধ্যে নতুন আইসিইউ ভবনে ২০২১ সাল পর্যন্ত আমরা ডেঙ্গু রোগীর জন্য আলাদা ওয়ার্ড খুলে সেবা দিলেও করোনার প্রকোপ শুরু হলে সেখানে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল খুলি। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনা রোগীর চিকিৎসা চলছে। করোনা অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হওয়ার কারণে একই স্থানে করোনা ও ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোর ভেতরে কয়েকটি বেড আলাদা করে সেখানে সব ধরনের চিকিৎসা প্রটোকল মেনে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আরএমও ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন,‘ডেঙ্গু রোগীদের এ হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের সুরক্ষায়ও কঠোর দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। এ কারণে এ বছর খুলনায় ডেঙ্গুতে সুস্থতার হার বেশি। এ পর্যন্ত একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত এ হাসপাতালে ৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে।’