বগুড়ার হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক গাজীপুর থেকে উদ্ধার

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতককে গাজীপুরে পাওয়া গেছে। গাজীপুর সদর থানা পুলিশ রবিবার সন্ধ্যায় চন্দ্রা বাজার এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে।

বগুড়া সদর থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, সোমবার আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে মায়ের কোলে তুলে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, বগুড়া সদরের এরুলিয়া বানদীঘি গ্রামের সৈকত হাসানের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ইতি বেগমকে (২৩) গত ৫ নভেম্বর বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরদিন সিজারিয়ানের মাধ্যমে তিনি একটি ছেলেসন্তান প্রসব করেন।

শিশুটির নানি সালেহা বেগম জানান, ৯ নভেম্বর দুপুরে তার দুই মেয়ে ইতি ও রোজিনা বাচ্চাকে নিয়ে গাইনি ওয়ার্ডে বসেছিলেন। সে সময় অজ্ঞাত এক নারী সেখানে আসে। সে সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এরপর খালা রোজিনা বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালের নিচতলায় বহির্বিভাগে আসেন। ওই নারী বাচ্চাকে কোলে নিয়ে রোজিনাকে কিছু কাগজ ফটোকপি করার জন্য বাইরে পাঠায়। রোজিনা ফটোকপি করতে হাসপাতালের বাইরে গেলে ওই নারী বাচ্চা নিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, শিশুটি চুরির পর দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়। স্থানীয়রা রবিবার দুপুরে গাজীপুরের চন্দ্রা বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে একটি নবজাতকের সন্ধান পান। ওই এলাকার পুলিশ বিষয়টি বগুড়া সদর থানায় অবহিত করে। এরপর পুলিশ শিশুটির বাবা সৈকত হাসান ও মা ইতি বেগমকে নিয়ে সেখানে যায়। মা-বাবা চুরি যাওয়া সন্তানকে শনাক্ত করেন। সদর থানা পুলিশ রবিবার রাতে শিশুটিকে নিয়ে বগুড়ায় পৌঁছে দেয়।

স্থানীয়রা জানান, এর আগেও এ হাসপাতাল থেকে একাধিক শিশু চুরি হয়। তাদের ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ চক্র হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি করে থাকে। আর এর সঙ্গে হাসপাতালের অসাধু কর্মচারীরা জড়িত।

সদর থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, গাজীপুরের চন্দ্রা বাজার এলাকার এক ব্যক্তি পরিত্যক্ত অবস্থায় শিশুটিকে পেয়েছিলেন। তার মাধ্যমে খবর পেয়ে সেখান থেকে ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার বগুড়ার আদালতের নির্দেশে নবজাতককে তার বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ অপহরণে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।