রাজশাহীতে স্কুলছাত্রকে নির্যাতনের পর ভিডিও

রাজনের পর এবার রাজশাহীর পবা উপজেলায় এক স্কুল শিক্ষার্থীকে হাত-পা বেঁধে পেটানোর দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে। মোবাইল চুরির ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রকে পেটানো হয় বলে জানা গেছে। তার নাম জাহিদ হাসান। বাড়ি পবা উপজেলার বাগসারা এলাকা। বাবার নাম ইমরান।


শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার তা ফাঁস হয়ে যায়। আহত ওই শিক্ষার্থীকে পবার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার জাহিদের মা শিউলি বলেন,তার ছেলে শুক্রবার দুপুরে পবার বিরস্তইল এলাকায় নানা বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিল। এসময় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের বিমানবন্দরের সামনে থেকে পলাশ, নাসির উদ্দিন, জামাল, রাজ্জাক, অনিক ও তুহিনসহ কয়েকজন তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে চৌবাড়িয়া গ্রামের ফজলুর বারির বাড়িতে নিয়ে হাত-পা  বেঁধে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। চুরির কথা স্বীকার করাতে শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত নির্যাতন চলে। এসময় নির্যাতনের ওই দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করা হয়।
কিন্তু জাহিদ মোবাইল চুরির বিষয়টি স্বীকার না করায় এক পর্যায়ে রাতে তার বাবা ইমরানের হাতে তাকে তুলে দেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পবা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ঘটনাটি কাউকে না জানাতে নির্যাতনকারীরা চাপ দিচ্ছে ইমরানকে। সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে ফজলুর বারির ছেলে রাকিবসহ নির্যাতনকারীরা।
আহত জাহিদ হাসান অভিযোগ করে জানায়, শুক্রবার সকালে ফজলুর বারির ছেলে রাকিবের একটি মোবাইল চুরি হয়। ওই চুরির ঘটনায় এলাকার ইমন (১২) নামে এক শিশুকে ধরে আনে ফজলুর বারির পরিবারের লোকজন। মারধরের এক পর্যায়ে ইমন  জানায় মোবাইল চুরির সঙ্গে জাহিদও জড়িত। এরপর জাহিদকে ধরে আনা হয়।
জাহিদের বাবা ইমরান অভিযোগ করে বলেন, জাহিদকে নির্যাতনের পর থেকেই নাসির এবং তাদের লোকজন অব্যাহত হুমকি দিয়ে আসছে। এ নিয়ে থানায় বা অন্য কোথাও অভিযোগ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে নাসির ওই নির্যাতনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, স্কুলছাত্রকে নির্যাতনের কোনও অভিযোগ আমরা পাইনি। পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

   ডিএ/এমএসএম