নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে অভিযোগ দেওয়ায় অভিযুক্তরা অসহায় মা-মেয়েকে পুনরায় নির্যাতন এবং নানাভাবে হেনস্তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের গাবুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, রেশমা বেগম(৫০) এবং তার মেয়ে এমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঘটনার পরে গত ৫ ডিসেম্বর পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তারা।
এর আগে ভুক্তভোগী রেশমা বেগম এবং তার মেয়েকে দুই বছর আগে গভীর রাতে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল একই বাড়ির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। পরে পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছিলেন তারা। পরে তৎকালীন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) মুকিত হাসান খান সেখানে গিয়ে মা-মেয়েকে ঘরে উঠিয়ে দেন। অভিযোগ পাওয়া যায়, এরপর থেকে কিছুদিন ভালো গেলেও ওই পুলিশ কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর থেকে আগের মতোই নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে বাড়ির প্রভাবশালীরা। তাদের দাপটে অবরুদ্ধ জীবন যাপন করছেন মা-মেয়ে।
ভুক্তভোগী রেশমা বেগম জানান, গত ১১ নভেম্বর বসতঘরের সামনে সবজির আবাদ করতে গেলে বাড়ির লোকজনের বাধার মুখে পড়েন তিনি। এর রেশ ধরে ওই রাতে জাফর হাওলাদার ও তার স্ত্রী সুজিলা বেগম রেশমাকে মারধর করেন। মারধরের শিকার হয়ে সদর থানা পুলিশকে অবহিত করেন তিনি। রাতে সদর থানার এএসআই মিজান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু ভিকটিমের পক্ষে কোনও সাক্ষী না পেয়ে চলে আসেন তিনি। পুলিশ চলে আসার পর দ্বিতীয় দফা মারধরের শিকার হতে হয় রেশমাকে। এ ঘটনায় রেশমা বেগম গত ৫ ডিসেম্বর পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ দেওয়ার পরে ১৩ নভেম্বর সদর থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে রেশমাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। পরে ১৫ নভেম্বর সদর থানায় জিডি করেন রেশমা। যার তদন্ত রয়েছেন এএসআই পিন্টু হালদার।
রেশমা বেগম আরও জানান, ২০২০ সালে একই ব্যক্তিরা শীতের রাতে তাদের ঘর থেকে এক কাপড়ে বের করে দেয়। পটুয়াখালীর গণমাধ্যমকর্মী ও অ্যাডিশনাল এসপি মুকিত হাসান খানের সহায়তায় বাড়িতে উঠতে সক্ষম হয়েছিলেন তারা। কিছুদিন না যেতেই তারা আবারও নানাভাবে হয়রানি করছেন।
এসব বিষয়ে ওসি (তদন্ত) আসাদুর রহমান বলেন, ‘উভয় পক্ষ একই বংশের, পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করলে ভালো হয়। উল্লিখিত ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে প্রসিকিউশন দেবো।’
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, আলোচ্য ঘটনায় থানা পুলিশের বারবার নিষ্ক্রিয়তার কারণে রেশমার প্রতিপক্ষরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এমনকি রেশমার পক্ষে লোকজনকে সাক্ষ্য না দিতে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন প্রতিপক্ষ প্রভাবশালীরা। রেশমাকে মারধর এবং সাক্ষীকে হুমকি-ধামকি সংক্রান্ত কিছু অডিও রেকর্ড বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধির হাতে রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বাড়ির একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, ‘থানা পুলিশের সঙ্গে অভিযুক্তদের সুসম্পর্ক থাকায় ভিকটিমের অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না পুলিশ। পুলিশ তাদের কথিত সোর্স দ্বারা ম্যানেজ হচ্ছেন। যেকারণে আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত বৃদ্ধা রেশমা ও তার মেয়ে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) সাইদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।