কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাই এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার নির্বাচন। তবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ভোটকেন্দ্রগুলো দখল ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে সোমবার দুপুরেই নির্বাচন বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচন দাবি করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা কামাল।
সোমবার সকাল ৮ টা থেকে বিরতি ছাড়াই বিকাল ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে কিছু কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আব্দুল লতিফের সমর্থকরা ব্যালট পেপার ছিনতাই করে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর সমর্থকরা। এ কারণে উভয় দলের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোস্তফা কামাল অনিয়মের অভিযোগ এনে দুপুরের পর নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন।
সোমবার দুপুরে কাজিরকামতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নাওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থী’র সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়। পরে বেলা ১টার দিকে কাজিরকামতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ওই কেন্দ্রে দুপুরের দিকে ব্যালট পেপার ছিনতাই নিয়ে বিশৃঙ্খলার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া নাওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কেন্দ্রের বাইরে ও ভেতরে মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসব ঘটনায় কিছু কিছু কেন্দ্রের ভোট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখলেও পরে তা আবার চালু হয়।
এদিকে কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, শান্তিপূর্ণ ভোট চলছে। অধিকাংশ কেন্দ্রেই সকালের দিকে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। তবে মেহের উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কেন্দ্রে জাল ভোট দিতে দেখা গেছে। এই কেন্দ্রে সকালে পরিবেশ ভালো থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যায় ভোটের চিত্র।
বিএনপি প্রার্থী বর্তমান মেয়র মোস্তফা কামাল বলেন, সকালের দিকে কোনও কোনও কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোট হলেও ঘণ্টাখানেক পরই কয়েকটি কেন্দ্র দখল করে নেয় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। কাজিরকামতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, মেহের উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, শাহরাস্তি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, নাওড়া তরপুরন্নেছা মহিলা কলেজ কেন্দ্র ও নওগাঁ কেন্দ্র তারা দখল করে নেয়। এ ব্যাপারে তিনি নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করেছেন বলে জানান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন,‘নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য গাজীপুর, টঙ্গী ও জেলা শহর থেকে লোক ভাড়া করে আনা হয়েছে। এটি একটি ন্যাক্কারজনক নির্বাচন। যা শাহরাস্তিতে আগে কখনোই হয়নি।’
এদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আব্দুল লতিফ বলেন, কাউন্সিলর প্রার্থীদের বাড়াবাড়িতে একটি কেন্দ্র ভোট স্থগিত হয়েছিল। জাল ভোট সম্পর্কে তিনি বলেন,‘আমার পক্ষে কেউ জাল ভোট দিয়েছে কিনা তা জানি না, দেখিনি। তবে আমার প্রতিপক্ষের জাল ভোট দেওয়ার অভ্যাস আছে। তারা বিষয়টি করতে পারে। বিশৃঙ্খলাও করেছে তারা। আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’
রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে যেটুকু প্রত্যাশা করেছি তা হয়নি। কয়েকটি কেন্দ্র ও কেন্দ্রের বাইরে গোলযোগ হয়েছিল সেই কারণে সাময়িকভাবে ভোট বন্ধ রাখা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিবেশ শান্ত হলে, আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
/জেবি/টিএন/