অক্সিজেন কারখানায় বিস্ফোরণে হতাহতদের পাশে গাউসিয়া কমিটি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সীমা অক্সিজেন কারখানায় বিস্ফোরণে আহতদের চিকিৎসায় ওষুধপত্র, রক্তসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করছে মানবিক সংগঠন ‘গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ’। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ সংগঠনটি খুলেছে বুথ। সেখান থেকে আহত রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করছে।

এর আগে শনিবার (৪ মার্চ) বিকালে দুর্ঘটনার পর থেকে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছিলেন এ মানবিক সংগঠনের সদস্যরা। সংগঠনটি নিজেদের অ্যাম্বুলেন্সে করে আহত ও নিহত অনেককে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন।

গাউসিয়া কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও মানবিক সেবা কর্মসূচির প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর থেকে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছিলেন গাউসিয়া কমিটির কয়েক শ’ সদস্য। হতাহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিতে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স কাজ করেছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে একটি বুথ করেছি। সেখান থেকে যেসব আহতদের চিকিৎসায় ওষুধপত্র প্রয়োজন হচ্ছে আমরা সাধ্যমতো সরবরাহ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আহত অনেকের কাপড় নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের অনেককে প্রয়োজনীয় কাপড় দেওয়া হয়। রোগী এবং স্বজন তথা উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেওয়া প্রশাসনের সদস্যদেরও শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়।’

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা গাউসিয়া কমিটির প্রচার সম্পাদক আহসান হাবিব চৌধুরী হাসান বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আহত অনেকের রক্তের প্রয়োজন হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যায় রক্তের প্রয়োজনের বিষয়টি জানানোর পর গাউসিয়া কমিটির কয়েকশ’ কর্মী চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে আসে। রবিবার সকাল পর্যন্ত ১০৭ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। তবে দুর্ঘটনায় আহতদের এত রক্তের প্রয়োজন হয়নি। আহতদের যতটুকু রক্তের প্রয়োজন হয়েছে তা দেওয়া হয়েছে। বাকি রক্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগীদের প্রয়োজনে দেওয়া হয়েছে।’

গাউসিয়া কমিটির সীতাকুণ্ড থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর থেকেই আমরা উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছি। আমরা চারটি লাশ এবং আহত পাঁচ জনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছি। আমরা উদ্ধারে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছি।’

আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আবদুল মালেক বলেন, ‘গাউসিয়া কমিটির সদস্যরা উদ্ধার কাজে প্রশাসনকে ভালো সহযোগিতা করেছেন। তাদের কারণে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করা সহজ হয়েছে। আহতরা দ্রুত চিকিৎসা পেয়েছেন।’

গাউসিয়া কমিটি করোনা কালে দেশে সর্বপ্রথম সহযোগিতার হাত বাড়ায়। এ সংগঠনটির সদস্যরা করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের গোসল, কাফন পরানো ও দাফনের ব্যবস্থা করেছেন। করোনার পর এ সংগঠনটি যেকোনও দুর্যোগে এগিয়ে আসছেন।