যবিপ্রবি ছাত্র রিয়াদ হত্যা মামলার বাদীকে এজলাসে হুমকি

পুলিশের পাহারায় মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম রাজুযশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলাম রিয়াদ হত্যা মামলার বাদীকে আদালত কক্ষেই হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাসের (বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত) নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন তাকে ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম রাজুকে পুলিশের পাহারায় আদালত থেকে খুলনায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
বুধবার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুঞ্জয় মিস্ত্রির আদালতে এ মামলার শুনানির ধার্য দিন ছিল। শুনানি শেষে আদালত কক্ষেই বাদীকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
মামলার বাদী রাজু জানান, শুনানি শেষ হলেও আসামিরা প্রায় এক ঘণ্টা এজলাসে ছিলেন। এরপর সেখানে তাদের লোকজন বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে প্রায় ৪০-৫০ জন আদালতের বারান্দায় জড়ো হন। তাদের মধ্যে থেকে একজন এসে তাকে বাইরে বের হয়ে আসতে বলেন। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি পুলিশে খবর দেন। এরপর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা দিয়ে খুলনায় পৌঁছে দেয়।
কারা ভয়ভীতি দেখিয়েছে জানতে চাইলে রাজু বলেন, ‘আসামি পক্ষের লোকজন।’  তিনি তাদের নাম জানাতে রাজি হননি।
তিনি বলেন, ‘এখন যে অবস্থা নাম বললে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে।’

তিনি মামলাটি খুলনায় স্থানান্তরের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করবেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘যশোরে মামলা চালাতে এলে শতভাগ প্রাণনাশের শঙ্কা রয়েছে।’

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার এসআই নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শহরে মোবাইল ডিউটিতে ছিলাম। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আদালতে গিয়ে রফিকুল ইসলাম রাজুকে থানায় নিয়ে আসি। এরপর তাকে খুলনা পৌঁছে দেই।’ এর বাইরে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

যোগাযোগ করা হলে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনোয়ার হোসেন বিপুল বলেন, ‘রিয়াদ হত্যা মামলার বাদীকে কোনও ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়নি। ছাত্রলীগের ছেলেদের উপস্থিতি দেখে উনি এমনিতেই ভয় পেয়েছেন।’

নাইমুল ইসলাম রিয়াদ যবিপ্রবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং শহীদ মশিউর রহমান হলের ৪১৭ কক্ষে থাকতেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যায়। ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই দলীয় সন্ত্রাসীরা রিয়াদকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৫ জুলাই রিয়াদের মামা রফিকুল ইসলাম রাজু বাদী হয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুলসহ ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত দুই-তিনজনকে আসামি করে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

/বিটি/এইচকে/