শেখ কামাল দ্বিতীয় বাংলাদেশ যুব গেমসে অংশগ্রহণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গ্রেফতার হওয়া ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ পাঁচ খেলোয়াড়ের জামিন দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৬ মার্চ) দুপুরে রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক এই আদেশ দেন।
রবিবার (৫ মার্চ) ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরার পথে ট্রেনে একজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ঝামেলা হলে যুব গেমসে অংশ নেওয়া একদল খেলোয়াড়ের নামে তার স্ত্রী রেলওয়ে থানায় মামলা করেন। এরপর রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ১১ খেলোয়াড় এবং তাদের কোচকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার রাত ৮টার দিকে রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হলে ছয় খেলোয়াড় ও কোচকে ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. লিটন হোসেন কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক পাঁচ খেলোয়াড়কে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ তোলা হলে রাতে তারা সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। তাদের আইনজীবী মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘রবিবার রাত হয়ে যাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ শুনানি হয়নি। সোমবার আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানি হয়। আদালতের বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান পুলিশ প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত তাদের পূর্ণাঙ্গ জামিন মঞ্জুর করেন। তবে তারা একজন প্রবেশন কর্মকর্তার নজরদারিতেও থাকবেন বলে আদালত আদেশে উল্লেখ করেছেন।’
১১ খেলোয়াড়ের মধ্যে তিন জন ছেলে এবং আট জন মেয়ে। কারাগারে পাঠানো ছয় জন হলেন– আলী আজম (১৯), আকাশ আলী মোহন (২০), রিমি খানম (১৯), পাপিয়া সারোয়ার ওরফে পূর্ণিমা (১৯), মোছা. দিপালী (১৯) ও সাবরিনা আক্তার (১৯)। অন্য পাঁচ জনের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। তাদের কোচের নাম আহসান কবীর (৪৫)।
সোমবার সকাল ১০টা থেকে আদালত চত্বরে ১১ জন খোলোয়াড়ের স্বজনরা অপেক্ষা করছিলেন। খেলোয়াড় রিমি খানমের (১৯) মা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘যারা খেলতে গিয়েছিলেন সবাই হতদরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়ে। গরিব বলেই তারা খেলতে গেছেন। যাতে খেলে একটা কিছু হতে পারেন।’ তিনি জানান, তার মেয়ে রিমি খানম এবার এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার পড়াশোনা আছে। ১৮ মার্চ ভারতে খেলা আছে। এই মামলা থাকলে তার মেয়ের ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাবে। পড়াশোনাটাও নষ্ট হবে।
এই খেলোয়াড়রা জুডো, কুস্তি, কারাতেসহ বিভিন্ন খেলায় অংশ নিয়ে থাকেন। রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় তাদের বাড়ি। মামলায় মো. রমজান (১৯) নামের আরেক খেলোয়াড়কেও আসামি করা হয়েছে। তবে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
রবিবার বিকালে গোলাম কিবরিয়া (৩০) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা মামলাটি করেন। গোলাম কিবরিয়ার বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ীর প্রেমতলী খেতুর গ্রামে। তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কর্মরত।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, রবিবার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানাকে নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন গোলাম কিবরিয়া। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে তাকে মারধর করে খেলোয়াড়ের দলটি। এরপর রাজশাহী রেলওয়ে থানা-পুলিশ সবাইকে থানায় নিয়ে যায়। মারামারিতে পুলিশ সদস্য গোলাম কিবরিয়ার নাক ফেটে গেছে। তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মামলায় তার স্ত্রী দাবি করেন, স্বামীকে মারধরের সময় তার গলার চেইন চুরি করে নেওয়া হয়েছে।