মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা

গোপালগঞ্জদুর্বৃত্তদের হামলায়  আহত গোপালগঞ্জের জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদ্য বিদায়ী সভাপতি সাইদুর রহমান বাসু মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় গোপালগঞ্জে অভ্যন্তরীন ৫টি রুটের মধ্যে ৩টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সাইদুর রহমান বাসুর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নিহতের সমর্থকরা শহরের পুলিশ লাইন মোড়ে সড়ক অবরোধ করে। পরে পুলিশ এসে অবরোধ তুলে দেয়।
অন্যদিকে, বাসুর মৃত্যুর খবরে শ্রমিকদের দু’ গ্রুপ ফকিরকান্দি এলাকায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে চারজনকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং  গুরুতর আহত এক নারীকে খুলনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের সময় বাসুর ভাই ইসারত, শ্রমিক নেতা বুলবুলসহ বেশ কয়েকজনের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করা হয়।  এ ছাড়া বুধবার রাতে বুলবুলের বাড়িতে একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।

নিহত বাসুর ভাই জাসু শেখ জানিয়েছেন, বুধবার রাতে কুয়াডাঙ্গা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস থেকে মৌলভীপাড়ার বাসায় ফিরছিলেন তার ভাই। মৌলভীপাড়ায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে দুই পা ও এক হাত ভেঙে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে বাসুর মৃত্যু হয়।

 সাঈদুর রহমান বাসুর বড় ভাই ইসারত শেখ অভিযোগ করে বলেন,  আমার ভাই বাসু শ্রমিকদের খুবই জনপ্রিয়। পরপর দু’বার সে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে। এ বারের নির্বাচনেও সে জয়ী হতো। প্রতিদ্বন্দী সভাপতি প্রার্থী বুললুল ইসলাম আগেও দু’বার আমার ভাইয়ের কাছে হেরেছে। এবারও পরাজিত হবে জেনেই বুলবুল পরিপল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। তারপরও তাদের লোকজন আমাদের পাঁচটি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। 

প্রতিদ্বন্দী সভাপতি প্রার্থী বুলবুল ইসলামের ছোট ভাইয়ের বৌ সায়মা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কে বা কারা বাসুকে হত্যা করেছে তা আমরা জানি না। ঘটনার সময় বুলবুল ভাই বাড়িতে টিভি দেখছিলেন। আমরা বাসুর ওপর হামলার খবর পাওয়ার পর বুলবুল ভাইকে বাড়ি থেকে বাইরে যেতে অনুরোধ করি। পরে তিনি বাড়ি থেকে চলে যান। শ্রমিক ইউনিয়নের  নির্বাচনে সভাপতি পদে বুলবুল ভাই প্রার্থী হবেন। তাই প্রতিহিংসামূলকভাবে তাকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হচ্ছে।  এ ঘটনায় আমাদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে।

ঘোষেরচর গ্রামের একটি গ্রুপের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলেও তিনি জানান।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) সওগাতুল আলম জানান, গোপালগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাসুকে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

/এইচকে/বিটি/