সুন্দরগঞ্জে আ. লীগের সম্মেলনে ভাঙচুর, কাউন্সিল স্থগিত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে মঞ্চ, চেয়ার ও গেট ভাঙচুর এবং গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিক্ষুদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব কাউন্সিল অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে সাড়ে ৫টার দিকে সুন্দরগঞ্জ ডি-ডব্লিউ ডিগ্রি কলেজ মাঠে সম্মেলন অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। ফলে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা গাইবান্ধায় চলে এসেছেন।

উপস্থিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা জানান, দীর্ঘ ১৪ বছর পর বৃহস্পতিবার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠান চলছিল। দুপুরে সম্মেলনের প্রথমপর্ব আলোচনা সভা শেষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি এমপি, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহামুদ হাসান রিপনসহ অন্যান্য অতিথিদেরকে স্থানীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন দুপুরের খাবারের কথা বলে তার বাড়ি বামনডাঙ্গার শাহবাজ গ্রামে নিয়ে যান। কিন্তু সেখান থেকে দীর্ঘ সময়েও এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা সম্মেলনের সভাস্থলে আসছিলেন না। এদিকে, সম্মেলন স্থলে গুজব ওঠে এমপির বাড়িতে কাউন্সিল ছাড়াই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বাদ দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের পায়তারা চলছে। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এমপির এমন হঠকারিতায় ক্ষোভে নেতাকর্মীরা মঞ্চ, চেয়ার ও তোরণ ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

মিছিল শেষে স্থানীয় বঙ্গবন্ধু চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী ও সুন্দরগঞ্জ পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ্-আল-মামুন, কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব মাসুদ। বক্তারা প্রতিবাদ সমাবেশে স্থানীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।

গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামস-উল আলম হিরু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তারা সবাই গাইবান্ধা চলে এসেছেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন কাউন্সিলের ব্যাপারে পরে সিন্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সুন্দরগঞ্জ পৌর মেয়র আব্দুল্লা আল মামুন তালুকদার জানান, কাউন্সিলে স্থানীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন সভাপতি ও বর্তমান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আবারও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। কাউন্সিলরদের প্রতি আস্থা না পেয়ে তারা দুজন অতিথিদের নিয়ে আর সম্মেলন স্থলে ফিরে আসেননি। এ কারণে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে এমপির বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান পৌর মেয়র।

তিনি আরও জানান, অপর প্যানেলে পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুন সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে আছেন উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিজানুর রহমান।

এ ব্যাপারে মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া এমপি সমর্থিত লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি ইসরাইল হোসেন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ অবস্থান করছে।

/বিটি/এএইচ/আপ-এআর/