কাজীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম জানান, কাগজপত্র চেকিং-এর নামে ওসির নির্দেশে কাজীপুর থানা পুলিশ প্রায়ই সিরাজগঞ্জ-কাজীপুর আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকৃত মোটরসাইকেল আটকে রেখে চাঁদাবাজি করে আসছে। শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ভটভটি ও বালুর ট্রাক আটকে রেখেও ওসি উৎকোচ গ্রহণ করেন বলেও অনেকে আমাকে জানিয়েছে। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ৪/৫ জন কনস্টেবলসহ ওসি কাজীপুর উপজেলার সীমানা অতিক্রম করে সীমান্ত বাজার এলাকায় ভকেশনাল ইনস্টিটিউটের কর্মচারী ঈমান আলীর মোটরসাইকেল আটক করে ২ কনস্টেবলের মাধ্যমে থানায় পাঠিয়ে দেয়। একই সময়ে আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল আটক করার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওসির সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। এরই এক পর্যায়ে ধৃত মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিয়ে ওসিসহ বাকি পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধরা। ঘণ্টা খানেক আটকে থাকার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন ওসি। হোমিও চিকিৎসক ডা. ফরিদুল ইসলাম জানান, এ ধরনের অভিযান চালিয়ে ওসি লোকজনের কাছ থেকে প্রায়ই টাকা-পয়সা নিয়ে থাকেন। যে কারণে অনেক লোকজনই তার ওপর ক্ষুব্ধ।
এ বিষয়ে কাজীপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান খান অবরুদ্ধ, ও চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, অবৈধ ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে পুলিশের গত কদিন থেকেই বিশেষ অভিযান চলছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলামের এক আত্মীয়ের রেজিসেট্রশনবিহীন মোটরসাইকেল আটকের পর সেটি ছেড়ে না দেওয়ায় সে এলাকার লোকজন নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। যে কারণে কিছু অনাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।
কাজীপুর থানাও সীমানায়ই পুলিশের অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কাজীপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী বলেন, মোটরসাইকেল ধরা বা ছাড়া নিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগ-বিতণ্ডা হয়েছে বলে শুনেছি।
পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ রাত সাড়ে ৮টার দিকে জানান, বিষয়টি এখনও তিনি ভালোভাবে জানেন না।
/এএইচ/আপ-এআর/