সন্ধ্যা ৬ টায় বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক কমলেশ কুমার হলে আসেন। এ ব্যাপারে তিনি কোনও কথা না বললেও সহকারী প্রভোস্ট আপেল মাহমুদ জানান বিষয়টি লিখিত আকারে উপাচার্যকে জানানো হয়েছে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে সহকারী প্রক্টর আপেল মাহমুদ মোবাইল ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পুরো ঘটনা তদন্ত করতে বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক কমলেশ কুমারকে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি সদস্যরা হলেন সহকারী প্রক্টর বকুল চক্রবর্তী, আখতারুল ইসলাম ও শিক্ষক বিপুল কবীর। কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের হলে তুচ্ছ ঘটনায় ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শিশির এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসানের ক্যাডারদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সভাপতির সমর্থক আজিজুল হাকিম রাসেলের ওপর হামলা চালায় সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকরা। গুরতর আহত অবস্থায় আজিজুল হাকিম রাসেলকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগের সভাপতি শিশিরের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে শেখ মুজিব হলে হামলা চালায়। এসময় দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় হলেন প্রথম তলা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত বিভিন্ন কক্ষে চলে ব্যাপক ভাঙচুর। অল্প সংখ্যক পুলিশ থাকায় তারা কোনও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। পরে পুলিশের একটি দল ছাত্রলীগের মহড়া প্রদর্শনকারী দুই গ্রুপকে ধাওয়া করে বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে।
দুপুর ১২ টা থেকে সংঘর্ষ প্রকট আকার ধারণ করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর শাহিন রহমানসহ সহকারী প্রক্টর, হলের প্রভোস্ট কাউকেই ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুর-উন-নবী ক্যাম্পাস এলাকায় অবস্থিত বাসভবনে থাকলেও নীরব ভূমিকা পালন করেন বলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান। পুরো বলে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে নিরাপত্তার অভাবে শেখ মুজিব হলের শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, এ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু হলে ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে হলের প্রভোস্টসহ কয়েকজন শিক্ষককে বাইরে থেকে তালা দিয়ে আটকে রেখেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শিশিরসহ তার সমর্থকরা।
এসআই শফিক জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১২ রাউন্ড রাবার বুলেট ও বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
/এইচকে/আপ-এআর/