রংপুরে এক কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণ এবং পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করায় দুই জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২-এর বিচারক মো. রোকনুজ্জামান এ রায় দেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বান্ধবী তারামণি বোনের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে তাকে ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্কুল থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর বিকালের দিকে অন্য একটি স্থানে আগে থেকে অবস্থান করা তারামণির দুলাভাই অহিদ আলী এবং অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে পাউরুটি খেতে দিলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপর ভুক্তভোগীকে তারামণির সহায়তায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে একটি হোটেলে নিয়ে অহিদ ধর্ষণ করে। পরের দিন ভিকটিমকে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের নারী পাচারকারী দলের নেত্রী ইয়াসমিনের কাছে বিক্রি করে দেয়। ইয়াসমিন ও তার স্বামী মানিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ এলাকায় একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ভুক্তভোগীকে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করে। এরপর ইয়াসমিন বিদেশে পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। ভুক্তভোগী বিষয়টি জানতে পেরে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে একটি বাসে ওঠে। এক নারী বাসযাত্রী ভুক্তভোগীর বাবার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। পরে তার বাবা বদরগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় কিশোরগঞ্জ থেকে তাকে উদ্ধার করেন। সেই সঙ্গে পাচারকারী দলের নেত্রী ইয়াসমিন ও তার স্বামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আদালতে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে অহিদ আলী এবং পাচারকারী ইয়াসমিনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়। ভিকটিমের বান্ধবী তারামণি ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় তাকে আট বছরের আটকাদেশ দেন আদালত। আসামি অহিদ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ এবং মানিককে খালাস দিয়েছেন আদালত।
রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, ‘এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে আসামি মানিককে খালাস দেওয়ায় এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’