ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসের আশঙ্কায় চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শনিবার (১৩ মে) সকাল থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পাহাড়ধসে প্রাণহানি রোধে নগরীর আকবর শাহ থানাধীন ফয়েজ লেক সংলগ্ন ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, ৩ নম্বর ঝিল ও শান্তিনগর এলাকা, খুলশী থানাধীন লালখান বাজারের মতিঝর্ণা, বাটালি হিল ও পোড়াকলোনী পাহাড়, চান্দগাঁ থানাধীন আমিন জুটমিলস পাহাড়, টাংকির পাহাড়, ভেড়া ফকিরের পাহাড় এবং বার্মা কলোনি পাহাড়সহ অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে লোকজন সরানো শুরু হয়েছে।’
জেলা প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবক টিম, সিপিপি ভলান্টিয়াররা মহানগরীর সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) নেতৃত্বে স্থানীয় ভূমি অফিসের সমন্বয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (২৮৯ মিলিমিটার) বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আট হাজার ৮৮০ জন সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তারা এলাকায় আবহাওয়া বার্তা প্রচার করছে। পর্যাপ্ত সরঞ্জামসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৫৩০টি স্থায়ী এবং ৫০০টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলার ফটিকছড়িতে ১১২টি, হাটহাজারীতে ১৮টি, মিরসরাইয়ে ৮৫টি, রাঙ্গুনিয়ায় ২১৭টি, রাউজানে ২টি, সন্দ্বীপে ১১৬টি, সীতাকুণ্ডে ২৫টি, বাঁশখালীতে ১২২টি, বোয়ালখালীতে ৬টি, চন্দনাইশে ৬টি, পটিয়ায় ১২৬টি, সাতকানিয়ায় ৪টি, আনোয়ারায় ৫৮টি, লোহাগাড়ায় ২৭টি, কর্ণফুলীতে ১০টি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৯৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে।