শহীদ মিনারে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ১০, ছাত্রলীগের দাবি হয়রানি

যশোর এমএম কলেজ শহীদ মিনারএকুশের প্রথম প্রহরে যশোর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জেলা ছাত্রলীগের ১০ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা সবাই সরকারি এমএম কলেজের বিভিন্ন বর্ষের ছাত্র।
রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত এমএম কলেজের শহীদ আসাদ হলে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি বোমা, বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত ১০০ গ্রাম গানপাউডার, জালের ২০টি লোহার কাঠি, লোহার কুচি ১০০ গ্রাম, কাচের টুকরা, ৭টি লোহার রড ও লাঠি এবং ১৪ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন এসব তথ্য জানান।
এর আগে বেলা ১২টার দিকে যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের ফোন করে বোমাসহ ১০ জনকে আটকের সংবাদ দেন।
আটককৃতরা হলেন- ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কচুয়া এলাকার জেডএ বিজয় (২২), মহেশপুর উপজেলার ডালভাঙ্গা এলাকার এএম আকাশ (২২), মাগুরার শালিখা উপজেলার নাঘোপা এলাকার মহিদুল ইসলাম (১৯), যশোরে বেনাপোল পোর্ট থানার কাগজপুকুর এলাকার রকি (২২), একই এলাকার সুমন হোসেন (২১), খুলনার আড়ংঘাটা এলাকার মিথুন সরকার (২৬), শার্শা উপজেলার নহিহাটি এলাকার রাশে মিয়াজী (২৮), যশোর সদরের বাহাদুরপুর এলাকার গাজী হাসান (২৮), ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার মানিকদিহি এলাকার শাহিন (২২) এবং ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা এলাকার তিতাস মিয়া (২৩)।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল অভিযোগ করেছেন, শহীদ মিনারে বোমাবাজি ও গুলির ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পুলিশ নিরীহ ছাত্রলীগ কর্মীদের আটক করছে। গত রাতের ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনও যোগ নেই।

প্রসঙ্গত, একুশের প্রথম প্রহরে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ চত্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের পুষ্পার্ঘ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বোমাবাজি ও গুলিবর্ষণের এ ঘটনা ঘটে।

দুর্বৃত্তরা সেখানে ৪-৫টি বোমার বিস্ফোরণ এবং কয়েক রাউন্ড গুলি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ এবং ১৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

/এসএম/এজে/