পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশনাকে দুরভিসন্ধিমূলক বলছেন রাবি ছাত্র নেতারা

সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক পরিচয়পত্র (স্টুডেন্ট আইডি) সঙ্গে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে থাকা দোকানগুলো রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হঠাৎ প্রশাসনের এমন নির্দেশনাকে দুরভিসন্ধিমূলক বলছেন ছাত্র নেতারা।

ছাত্র নেতারা তারা বলছেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা যেত। কিন্তু তা করা হয়নি। দোকানপাট বন্ধ ও পরিচয়পত্র রাখার নির্দেশনায় প্রতীয়মান হয় যে, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের হলের মধ্যে আবদ্ধ রাখতে চায়। ১০টার পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে থাকলে তাদের আইডি কার্ড নিয়ে যাওয়া হয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পরিবারকেও জানানো হয়। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করতে চায়।’

গত ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক পরিচয়পত্র রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলো।

এর আগে স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের জেরে ১৪ মার্চ নিরাপত্তার অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরের দোকানগুলো রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি শাকিলা খাতুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের দোকানগুলো রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে বন্ধ করছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক আইডি রাখার নির্দেশনা দিয়েছে, যা দুরভিসন্ধিমূলক। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হয়রানির শিকার হওয়ার শঙ্কা আরও বেড়ে গেলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিগত দিনগুলোতে দেখেছি, শিক্ষকরা যখন-তখন শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে তার মা-বাবাকে ডেকে আনা হয়। আমাদের সবার মা-বাবা কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না। ফলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ভালোভাবে জানে না। তাই এমন ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয় তাদের। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মূলত একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে বাক স্বাধীনতাকে সংকুচিত করা চেষ্টা করছে।’

শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষা শেষে সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে একটু আড্ডা দেবেন, এটাই স্বাভাবিক। পড়াশোনার পাশাপাশি চিত্ত-বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু আমরা দেখছি, আড্ডার জায়গা তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোকানগুলো দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন।’