সেদিনের সেই দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন বেঁচে যাওয়া অনেকেই। স্বজন হারিয়ে অনেক পরিবারই হয়ে পড়েছে অসহায়।
সার বোঝাই কার্গো জাহাজ নার্গিসের থাক্কায় পদ্মায় ডুবে গিয়েছিল এমভি মোস্তফা। ঘাটের কাছাকাছি হওয়ায় অনেক যাত্রীই সাঁতরে তীরে উঠেছিলেন। কিন্তু ৮০ জনের প্রাণ পদ্মার বুকেই চলে যায়। তাদের বেশিরভাগই ছিল নারী ও শিশু।
দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে সরকারিভাবে এক লাখ ৫ হাজার ও মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।
জানা যায়, যে কার্গোর ধাক্কায় লঞ্চটি ডুবে যায়, তা ছিল কোস্টার জাতীয় দ্বিতীয় শ্রেণির জলযান। বালুবাহী ট্রলার থেকে এমভি করা হয়, যা ছিলো সম্পূর্ণ অবৈধ। এর মালিক ক্ষমতাসীন দলের এক সংসদ সদস্য।
মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, লঞ্চ দুর্ঘটনায় শিবালয় থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলাটি ডিবি তদন্ত করছে।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহত ও আসামিদের বাড়ি বিভিন্ন জেলায় হওয়ার কারণে তদন্ত ধীরে চলছে।’
ওই দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হয়েছিল তিনটি। এর মধ্যে সমুদ্র অধিদপ্তর তিন সদস্যের কমিটি করে, যার প্রধান ছিলেন নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সাজাহান।
নৌপরিহন মন্ত্রণালয়ের সাত সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুরুর রহমান। এছাড়া মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের করা ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসলাম হোসেন।
এদিকে নৌ মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া সমুদ্র অধিদপ্তরের করা তদন্ত কমিটি এখনও তাদের তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেয়নি।
/এজে/