ক্যানসারে ৪ মাসে দুই এমপির মৃত্যু

মরণব্যাধী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গত চার মাসে চট্টগ্রামের দুই জন সংসদ সদস্য মারা গেছেন। এর মধ্যে শুক্রবার (২ জুন) মারা যান চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, পাহাড়তলী ও হালিশহর) আসনের সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমীন। 

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ) আসনের সংসদ সদস্য এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ।

আফছারুল আমীনের ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়ে। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, পাহাড়তলী ও হালিশহর) আসনে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পর পর পাঁচবার সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তিনি এই আসন থেকে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সরকারের নৌপরিবহন ও পরে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও অনেক গুণগ্রাহী রেখে যান।
 
তার ভাই এরশাদ আমীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে আমার ভাই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। শুক্রবার (২ জুন) ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। প্রথম দিকে ক্যানসার ধরা পড়ার পর তিনি সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে চলেন।’

মোছলেম উদ্দিন আহমেদ গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ২০২১ সালের শুরুতে তিনি মরণব্যাধী ক্যানসারে আক্রান্ত হন। তার মৃত্যুর পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গত ২২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ) আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ২৭ এপ্রিল এ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ এমপি নির্বাচিত হন। 

এর আগে ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর মইন উদ্দিন খান বাদল ভারতের বেঙ্গালুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান করেন। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হলে ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।