খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে ইভিএম মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী। প্রতিটি কেন্দ্র ও ভোট কক্ষে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। নির্বাচন উপলক্ষে ১১ প্লাটুন বিজিবিসহ সাড়ে ৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, কেসিসিতে এ বছর ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন। নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রে তারা ভোট প্রদান করবেন। ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সহজ করতে এসব কেন্দ্রে এক হাজার ৭৩২টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ২৮৯ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ১ হাজার ৭৩২ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং ৩ হাজার ৪৬৪ জন পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সামনে একটি করে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা থাকবে। এ ছাড়া ১ হাজার ৭৩২টি ভোটকক্ষের প্রতিটিতে একটি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের জন্য ৩ হাজার ইভিএম মেশিন রয়েছে। ১২ জুন ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় অস্ত্রসহ এসআই/এএসআই একজন, তিন জন কনস্টেবল, অস্ত্রসহ একজন আনসার (পিসি), অস্ত্রসহ একজন আনসার (এপিসি), ১০ জন আনসার সদস্যসহ মোট ১৬ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর লোক নিয়োগ থাকবে। পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে প্রতি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে মোবাইল ফোর্স, তিনটি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স, প্রতি থানায় একটি করে রিজার্ভ স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োজিত থাকবে। এ ছাড়া কেন্দ্র অনুযায়ী থাকবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রসহ নগরীর সার্বিক নিরাপত্তায় বিজিবি, পুলিশ, আনসার, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় সাড়ে আট হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।’
এদিকে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়কে টহল শুরু করেছে বিজিবি সদস্যরা।
খুলনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) খন্দকার ইয়াসির আরেফীন বলেন, ‘নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা চার দিন দায়িত্ব পালন করবে। বিজিবির টহল টিমের সঙ্গে ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।’
জানা গেছে, কেসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী এবং ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৩৬ জন ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে নগরীর ১৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।