অবশেষে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র ও ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে কার্পজাতীয় মা মাছ। এবার নির্দিষ্ট সময়ের পরে রবিবার (১৮ জুন) মধ্যরাতে ডিম ছেড়েছে মা মাছেরা। তিনশ নৌকা নিয়ে ওই ডিম সংগ্রহ করেছেন জেলেরা।
জানা গেছে, হালদা নদীর হাটহাজারী উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের রামদাসমুন্সির হাট, মাছুয়াঘোনা, আমতুয়া, গড়দোয়ারা ইউনিয়নের নয়াহাট এবং রাউজান উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের আজিমার ঘাট, উরখিরচর ইউনিয়নের নাপিতের ঘাট, গহিরা ইউনিয়নের সত্তার মুখসহ নদীর বেশ কিছু অংশে ডিম ছেড়েছে মা মাছ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা গবেষক ড. মনজুরুল কিবরীয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বছর দেরিতে হলেও হালদা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ডিম ছেড়েছে মা মাছ। রবিবার মধ্যরাতে ডিম ছাড়ে মাছেরা। তিনশ নৌকা নিয়ে জেলেরা সেই ডিম সংগ্রহ করেছেন। একেকটি নৌকা ১৫ থেকে ২০ বালতি ডিম সংগ্রহ করেছে। আমি নিজেও অনেক ডিম সংগ্রহকারীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এবার পর্যাপ্ত ডিম পেয়ে খুশি। এমনও হয়েছে, তাদের কাছে থাকা বালতিগুলো ভর্তি হওয়ার পর আর ডিম সংগ্রহ করেননি। এখন সংগ্রহ করা ডিম ফোটানোর প্রক্রিয়া চলছে।’
ডিম সংগ্রহকারী রাউজান উপজেলার কাগতিয়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল আবছার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রবিবার মধ্যরাতে ডিম ছাড়ে মা মাছ। আমরা আগে থেকে নদীতে নৌকাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে প্রস্তুত ছিলাম। এবার অনেক বেশি ডিম পাওয়া গেছে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছর এপ্রিল থেকে মে মাসের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কার্প জাতীয় (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউস) মাছ ডিম ছাড়ে। ১০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীটিতে এবার নির্দিষ্ট সময়ের পরে ডিম ছেড়েছে কার্পজাতীয় মাছ। এর জন্য তীব্র দাবদাহ এবং হালদা নদীর পানিতে কর্ণফুলী নদী হয়ে সাগরের লোনা পানি প্রবেশ তথা জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, হালদায় ২০২২ সালে ডিম সংগ্রহের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৫৩৮ কেজি। ২০২১ সালে ছিল ৮ হাজার ৫০০ কেজি এবং ২০২০ সালে ছিল ২৫ হাজার ৫০০ কেজি।
রুইজাতীয় মাছের প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।