সংবাদ সম্মেলনে ওই তিন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী তিন প্রার্থীর উপস্থিতিতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাত্রাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক ফকির।
লিখিত অভিযোগে জানানো হয়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে তৎকালীন ক্ষেতলাল থানা শান্তি ও প্রতিরক্ষা কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটির সহ সেক্রেটারি ছিলেন বালাইট গ্রামের আব্দুল গফুর মন্ডল, শমসিরা গ্রামের আজাহারুল ইসলাম তালুকদার এবং সদস্য ছিলেন পুনটের মোহাম্মদ আলী ফকির। এই তিনজনের সন্তান যথাক্রমে নুর মোহাম্মদ মন্ডল কালাম আহম্মেদাবাদ ইউনিয়ন থেকে, আ.ন.ম শওকত হাবিব লজিক মাত্রাই ইউনিয়নে এবং আব্দুল কুদ্দুস ফকির পুনট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। আ.ন.ম শওকত হাবিব লজিক মাত্রাই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানও। তিনজনই আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা। ’কোনও রাজাকার ও তার সন্তানদের হাতে নৌকা প্রতীক তুলে না দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে’ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে ওই তিন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুনট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মোকছেদ আলী ফকির জানান, তিনি তৎকালীন ক্ষেতলাল থানা শান্তি ও প্রতিরক্ষা কমিটির সদস্যের (রাজাকার) সন্তানদেরকে ওই তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছেও আবেদন পাঠিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাত্রাই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন, আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নে মনোনয়ন প্রত্যাশী সিনজুনুর রহমান এলিন, নুর আলম সবুজ, মশিউর রহমান বকুল প্রমুখ।
এ ব্যাপারে মাত্রাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আ.ন.ম শওকত হাবিব লজিক নিজেকে ছাত্র জীবন থেকেই আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা দাবি করে বলেন, ‘পরিবারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়। সামনে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মিথ্যা অভিযোগ এনে ফায়দা লুটতেই তারা এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও পুনট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস ফকির জানান, তাদের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার প্রয়াত বড় ভাই কালাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমান চেয়ারম্যান তার ভাতিজা। তাদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষরা এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।
কালাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কালাই পৌর মেয়র হালিমুল আলম জন বলেন, দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোনও শর্ত আছে তা আমার জানা নেই।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলী বলেন, ‘রাজাকার বা তাদের সন্তানদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া যাবে না’ এ ধরনের শর্ত যদি থাকে, আর তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণাদি পাওয়া যায় তাহলে বিষয়টি কেন্দ্রে উপস্থাপন করা হবে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
/বিটি/টিএন/আপ-এআর/