রাজবাড়ীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৫৪ হাজার প্রাণী

রাজবাড়ীতে এবার পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির জন্য বিপুল পরিমাণ প্রাণী প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব প্রাণী যাবে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ আশপাশের অঞ্চলে। খামারিরা এখন বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত। কেউ কেউ রাজধানীতেও নিয়ে যাচ্ছেন।

রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর ৫৪ হাজার ৫২৫টি গরু-ছাগল বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। জেলার চাহিদা মিটিয়ে সেগুলো নেওয়া হচ্ছে ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে। কোরবানি উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ দফতরের যে চাহিদা ছিল তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ প্রাণী পালন করা হয়েছে।

খামারিরা জানান, শুরু হয়েছে কোরবানির প্রাণী কেনাবেচা। তাই বাজার ধরতে ব্যস্ত তারা। প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক খাবার ব্যবহার করে গরু-ছাগল মোটাতাজা করছেন। এ বছর খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালনে খরচ বেড়েছে।

খামারিরা বলছেন, এ বছর ভাবাচ্ছে প্রচণ্ড গরমের বিষয়টি। তাপমাত্রা এভাবে চলতে থাকলে বড় বড় গরু স্ট্রোক করতে পারে। তবে ঈদের আগে যদি তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে। বেশি দামে গরু বিক্রি করতে পারবেন। ঈদের আগে দেশের বাজারে ভারতীয় গরু প্রবেশে কঠোর নজরদারির দাবি জানান তারা।

রাজবাড়ীতে বিপুল পরিমাণ প্রাণী প্রস্তুত করেছেন খামারিরারাজবাড়ী সদর উপজেলার গৌরিপুর ইউনিয়নের পদ্মা অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. সুজন বলেন, ‘পবিত্র কোরবানি ঈদ উপলক্ষে সুস্থ এবং ভালো মানের প্রাণী সরবরাহ করতে আমার খামারে প্রাকৃতিক খাদ্য ঘাস, ভুট্টা, খড়, ভুষি খাইয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে ৪০টি ষাঁড়। গতবছর আমার খামার থেকে লাইভ ওজনে (জীবন্ত) গরু প্রতি কেজি ৪২৫ টাকা দরে বিক্রি করেছি, এ বছর খাদ্যদ্রব্যের দাম বেশি হওয়ায় ৫২৫ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।’

গরু পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা সোবহান, করিম, ফাতেমা বলেন, ‘নিজেদের চাষ করা ঘাস, খড়, ভুট্টা, ছালসহ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য খাইয়ে গরু লালন-পালন করা হয়েছে। এ কারণে এ খামারের গরুর চাহিদা বেশি।’

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া সাত্তার মেম্বারপাড়া এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘কোরবানিকে ঘিরে আমাদের খামারে ছয়টি গরু মোটাতাজা করে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে গরুর কেনা পার্টি এসে পছন্দ করে কোরবানির জন্য কিনতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার খামারে প্রতিটি গরুকে প্রাকৃতিক খাস, খড়, খৈল, ভুসি খেয়ে লালন-পালন করেছি। আশা করছি, গরুগুলো দেখে সবাই পছন্দ করবেন।’

গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মৃধাডাঙ্গা এলাকার গরুর খামারি ফজলু বলেন, ‘কোরবানির জন্য আমাদের খামারের ১০টি গরু প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করে প্রস্তুত করা হয়েছে।’

রাজবাড়ী সদর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. খায়ের উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ভেটেরিনারি টিম দিয়ে কোরবানির প্রাণী প্রস্তুতকারীদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। বিগত বছরের চেয়ে এ বছর গরু-ছাগল পালনে খরচ বেশি হয়েছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাকি প্রাণী ঢাকা ও চট্টগ্রাম যাবে।’