ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্প এলাকার জলাবদ্ধতার পানি অপসারণ করা না হলে ময়লা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকার হুমকি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘জনগণের একজন সেবক হিসেবে তারা (জনগণ) যেই পানিতে আছেন, গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে সেই পানিতে নেমে দাঁড়িয়ে থাকবো। আমি কমিটমেন্ট করছি, যেখানে জমে থাকা পানি সবচেয়ে বেশি ময়লা, আমি সেখানে নামবো, গলা পানিতে নামবো। কারণ আমার কাজ, জনগণের পক্ষে কথা বলা।’
রবিবার (২ জুলাই) বিকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল পাম্প স্টেশন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গে এ সময় শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, অতিবৃষ্টির কারণে একটা সমস্যা হয়েছে। আশা করছি, আজ রাতের মধ্যে এই পানি নেমে যাবে। যদি এটি না হয়, যে এলাকায় পানি জমে থাকবে সেই এলাকায় আমি নিজে গিয়ে গলা পর্যন্ত পানিতে থাকবো।’
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ড্রেনেজ অ্যান্ড স্যুয়ারেজ ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ডিএনডি প্রকল্পের কাজের টাকার সংকট পড়েছে। আমি আশা করি, এই জুলাই মাসেই টাকাটা আসবে। সেনাবাহিনী কাজটি করবে, তারা বলছে, কাজটি করতে আগামী এক বছর সময় লাগবে। তবে আমার অনুরোধ, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ করার জন্য। কারণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপরে আমার এই আশা তো থাকতেই পারে। ডিএনডি প্রজেক্টের জন্য এক হাজার ২৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ যথেষ্ট মনে হয়েছে।’
সিটি করপোরেশনের উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান বলেন, ‘পানির কানেকশনটা সব সময় ড্রেনের সঙ্গে থাকতে হবে। সিদ্ধিরগঞ্জ পুরোটাই তো সিটি করপোরেশনের এলাকা। সিটি করপোরেশনের কাছে আমার অনুরোধ, যেন খুব শিগগির সিদ্ধিরগঞ্জের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক করা হয়, ড্রেন ডিএনিডি খালের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়। এটি সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন– সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন, ডিএনডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকসহ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এদিকে, পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন থেকে টানা কয়েকদিনের বর্ষণে ডিএনডির অভ্যন্তরে সিদ্ধিরগঞ্জ, পাগলা, ফতুল্লা, কুতুবপুর, মুন্সিবাগ, শহীদবাগ, মিজমিজি, কদমতলী, কদমতলী পশিম, কালু হাজী রোড, ধনু হাজী রোড, ফতুল্লার শান্তিধারা, গিরিধারা, জালকুঁড়ি, ভূঁইগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে চরম বিপাকে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরার (ডিএনডি) মধ্যকার ৫৮.২২ বর্গ কিলোমিটার জলাভূমিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে অতিরিক্ত ধানচাষ করার জন্য চারদিকে বাঁধ নিয়ে ‘ডিএনডি ইরিগেশন প্ল্যান্ট’ তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে বাঁধটি ডেমরা-নারায়ণগঞ্জ-পোস্তগোলা-যাত্রাবাড়ী এলাকার চারদিকে যান চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরে ডিএনডি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫৫৮ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ডিএনডি ড্রেনেজ অ্যান্ড স্যুয়ারেজ ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প’ একনেকে উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ডিএনডি বাঁধের মধ্যে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর দুঃখ-দুর্দশার কথা বিবেচনা করে প্রকল্পটি অনুমোদন করেন। প্রকল্প এলাকায় দখলকৃত খাল পুনরুদ্ধার করে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনীকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরই মধ্যে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে এক হাজার ২৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।