বাগেরহাটের মোংলায় এক গৃহবধূকে মুখ বেঁধে, মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, মোংলা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের শেখ রাসেল সড়কের বাসিন্দা আশ্রাব আলীর ছেলে হাসান শিকদার (২৬) ও ১নং ওয়ার্ডের মোর্শেদ সড়কের বাসিন্দা মান্নান মাস্টারের ছেলে রফিকুল (২৫) ২৮ জুন (বুধবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পৌর এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকা এক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী ওই নারী (৩৬) পেশায় দর্জি। ভাড়া বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই থাকতেন। তাদের সন্তান নেই। ঈদ উপলক্ষে স্বামী গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেলে তিনি একাই ছিলেন। এর সুযোগে তাকে মারধর করে, বেঁধে ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী দাবি করেন, আমার ভাড়া বাসার সামনের টেইলার্সে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে অর্ডারের কাপড়চোপড় তৈরি করছিলাম। তখন হাসান ও রফিকুল টেইলার্সে ঢুকে কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। তাদের মারধরে চিৎকার করলে মেরে ফেলার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মুখ বেঁধে আমার ঘরে নিয়ে যায়।
তার দাবি, ঘরে নিয়ে দরজা-জানালা আটকে দিলে আমি অসুস্থ বলে তাদেরকে হাতেপায়ে ধরে অনুনয় করি। তাতে তাদের মন গলেনি, তারা দুজনে মিলে আমাকে ধর্ষণ করেন। সেই ভিডিও তারা তাদের মোবাইলে ধারণ করে। চলে যাওয়ার সময় ভিডিও দেখিয়ে শাসিয়ে যায়, বলে এ ঘটনা কেউকে বললে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে ভাইরাল করে দেবে। তাদের ভয়ে ও হুমকিধমকি এবং নজরদারিতে এক ধরনের অবরুদ্ধ থাকায় ঘর থেকে বাইর হয়ে থানায় গিয়ে মামলা করতে দেরি হয়েছে। ঘটনার চার দিনের মাথায় আমি বাদী মামলা করেছি।
মোংলা থানা ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন বলেন, পেশায় দর্জি গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় রবিবার (২ জুলাই) রাতে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মামলার আসামিরা পলাতক রয়েছে, তাদেরকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।