যশোর-মাগুরা সড়কে বাসচাপায় সাত জন নিহতের ঘটনায় ওই বাসের চালক মিজানুর রহমান মিজা (৩৬) পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। শনিবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যার পর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ও মালিক সমিতির নেতারা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
এ সময় যশোর কোতয়ালি থানায় জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন, কোতয়ালি থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
রয়েল ডিলাক্স বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৩৮৭৬) চালক মিজানুর রহমান মিজা যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার পাঠান পাইকপাড়া এলাকার শেখ নজরুল ইসলামের ছেলে।
বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবহন শ্রমিক নেতা সেলিম রেজা মিঠু বলেন, ‘লেবুতলায় যে ঘটনা ঘটেছে তার মর্মান্তিক ও হৃদয় বিদারক। এই ঘটনার সঙ্গে বাসচালক জড়িত কিনা তা তদন্ত করছে পুলিশ। পুলিশকে সহযোগিতার জন্য বাসচালক মিজানুর রহমানকে তাদের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
তিনি জানান, মহাসড়কে ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, আলমসাধু, থ্রি-হুইলারসহ নানা গতির যানবাহন চলাচল করে। ফলে রাস্তায় বাস, ট্রাক বা অন্য দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। শ্রমিক সংগঠনগুলো এর প্রতিবাদে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। ছোট যানবাহনের জন্য আলাদা লেন তৈরির দাবি কখনও পূরণ হয়নি। ফলে দুর্ঘটনা লেগেই আছে। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে মহাসড়কে এইসব যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধের। কিন্তু সে নির্দেশনাও পালন হচ্ছে না।
এ সময় পরিবহন নেতৃবৃন্দের মধ্যে বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু, যশোর বাস মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি সরোয়ার হোসেন, খাজুরা বাস মালিক সমিতির সভাপতি তারেক হোসেন, পরিবহন শ্রমিক নেতা আবু হাসান, হারুনুর রশিদ ফুলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
যশোর কোতয়ালি থানার ওসি বলেন, রাতে বাসচালক মিজানুর রহমান থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আগামীকাল তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর-মাগুরা সড়কের লেবুতলা ব্রিজের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৫ সদস্যসহ মোট ৭ জন মারা যান।