যশোরে কমেছে ১০ হাজার জিপিএ-৫, এগিয়ে মেয়েরা

গত বছরের তুলনায় এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার কমেছে। তবে পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে আছে মেয়েরা। এবার পাস করেছে ৮৬ দশমিক ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। যা আগের বছর ছিল ৯৫ দশমিক১৭ শতাংশ। সেইসঙ্গে গতবারের তুলনায় কমেছে প্রায় ১০ হাজার জিপিএ-৫। 

পাসের হার এবার কেন কম এমন প্রশ্নের জবাবে যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. বিশ্বাস শাহিন আহম্মদ বলেন, করোনাকালে আমরা প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষা নিতে পারিনি। সিলেবাস ছিল কাস্টমাইজ এবং অল্প সময়ের পরীক্ষা। সে কারণে করোনাকালে পাসের হার একটু বেশি ছিল। এ বছর পরিপূর্ণ সময়ে স্বাভাবিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে; সে কারণে চলতি বছর ফল এসেছে স্বাভাবিক বছরগুলোর মতো।

শুক্রবার সকালে যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

চলতি বছর যশোর বোর্ডের অধীনে তিনটি বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠান হচ্ছে শার্শা উপজেলার সাড়াতলা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এখান থেকে আট জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাশাপাশি নড়ইলের মুলাদি তালতলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়েছিল তিন শিক্ষার্থী এবং সাতক্ষীরার তালা উদয়ন সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল চার জন, তারা কেউ পাস করেনি।

এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে জানিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. বিশ্বাস শাহিন আহম্মদ বলেন, এ বছর বোর্ডের অধীনে ১৯৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছে।

মেয়েরা এগিয়ে

বরাবরের মতো এ বছরও পরীক্ষার ফলে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। বোর্ড থেকে এবার ৭৭ হাজার ৭৫৪ মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। যার মধ্যে পাস করেছে ৬৯ হাজার ৭৬ জন, পাসের হার ৮৮.৮৪। এছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৩৭০ জন। পরীক্ষা চলাকালীন বরখাস্ত হয়েছিল চার জন।

অপরদিকে, ছেলেরা অংশ নেয় ৭৮ হাজার ৫ জন, পাস করেছে ৬৫ হাজার ১৩৭, পাসের হার ৮৩.৫০। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৩৭০জন। বরখাস্ত হয়েছিল ৫ জন।

জেলাভিত্তিক পাসের হারে শীর্ষে সাতক্ষীরা

যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীন ১০ জেলার মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে সাতক্ষীরা জেলা। পাসের হার ৯১.৯৬। দ্বিতীয় খুলনা জেলা, পাসের হার ৯০.২১। এরপর যশোর জেলা, পাসের হার ৮৭.৫৩। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বাগেরহাট জেলা, পাসের হার ৮৬.০৬। এরপর কুষ্টিয়া, ৮৫.২১, মেহেরপুর ৮৩.৭৩, চুয়াডাঙ্গা ৮৩.৪৫, ঝিনাইদহ ৮৩.০৪, মাগুরা ৮০.৯৮ এবং দশ নম্বরে রয়েছে নড়াইল জেলা, পাসের হার ৮০.০০।

স্থানীয় সূত্র জানায়, যশোর শিক্ষাবোর্ডে এ বছর পাসের হার ৮৬.১৭ শতাংশ। গত বছর ছিল ৯৫.১৭। চলতি বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ হাজার ৬১৭, গতবার ছিল ৩০ হাজার ৮৯২ শিক্ষার্থী। যা গতবারের তুলনায় কমেছে প্রায় ১০ হাজার।