বগুড়ায় মাদকদ্রব্য বিক্রিতে ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান থেকে বাঁচতে বাড়ির আশপাশে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা মনিটরে ক্রেতাদের গতিবিধিও লক্ষ্য করা হয়।
র্যাব ও ধুনট থানা পুলিশ চলতি মাসে পৃথক অভিযানে সিসি ক্যামেরাসহ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ রয়েছে, বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর এলাকায় সরকারি দলের অঙ্গসংগঠনের দায়িত্বশীল নেতা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে জেলার মাদকদ্রব্য ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। তারা আমদানির পর পুরো জেলায় মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছেন। শুধু তাই নয় সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের প্রযুক্তিও সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশাসন জানলেও তাদের বিরুদ্ধে তেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কেউ গ্রেফতার হলেও তাকে জেলে রাখা সম্ভব হয় না। আইনের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে এসে ব্যবসা অব্যাহত রাখেন।
অপরদিকে ধুনট থানা পুলিশ গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে শেরপুর-ধুনট বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মাদক সেবনের অভিযোগে মাঠপাড়ার ইউসুফ আলী (২৫) ও অফিসারপাড়ার মনোয়ার হোসেন জয়কে (২২) গ্রেফতার করে। রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালতে নিলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুর রহমান তাদের এক বছর করে কারাদণ্ড দেন। ইউসুফের স্বীকারোক্তিতে পরদিন সকালে তার বাড়ির আশপাশের গাছে স্থাপন করা তিনটি সিসি ক্যামেরা ও ঘর থেকে একটি মনিটর, কন্ট্রোলার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
ধুনট থানার ওসি (তদন্ত) পঞ্চনন্দ সরকার জানান, এরা এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ফাঁকি দিয়ে নিরাপদে মাদক ব্যবসা করতে বাড়ির প্রধান সড়কের গাছের মগডালে তিনটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, বগুড়া শহরে চকসূত্রাপুর এলাকার সরকারের দলের দায়িত্বশীল কিছু নেতা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এ জেলায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন। এরা হিলিসহ অন্যান্য সীমান্ত পথে বিভিন্ন যানবাহনে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন আনেন।পরে তাদের বাড়ির আশপাশের ঘাঁটি থেকে পুরো জেলায় ছড়িয়ে দেন।সরকারি দলের এসব চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আইন-শৃংখলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রযুক্তি সরবরাহ বা পরামর্শ দিচ্ছে।
বগুড়ার সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া) গাজিউর রহমান সাগর জানান, নিরাপদ ব্যবসা করার জন্য মাদক ব্যবসায়ীরা বাড়িঘরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করছে। এসব সিসি ক্যামেরা উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
/এসএম/এমএসএম