মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার কুমারভোগ ইউনিয়নের কুমারভোগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
মারা যাওয়া দুই শিক্ষার্থী হলো কুমারভোগ গ্রামের শাহ আলম মৃধার ১০ বছরের মেয়ে চাঁদনী ও জাহিদ শিকদারের ১১ বছরে মেয়ে মরিয়ম। তারা স্থানীয় আমেনা হাকিম দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে মাদ্রাসা থেকে বাসায় এসে খাওয়া-দাওয়া করে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে যায় তারা। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরিয়মের মা সুমি আক্তার বলেন, ‘মাদ্রাসা থেকে আসার পরে মেয়ে ভাত খেয়ে গোসল করতে যায়। আমি ভাবলাম, গোসলখানায় গোসল করবে। এর মধ্যে ছোট ছেলেকে মাস্টারের কাছে প্রাইভেট পড়াতে দিতে গেলাম। এসে দেখি মরিয়ম নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুকুর পাড়ে গিয়ে দেখি চাঁদনীর মরদেহ ভাসছে। বিকালে চাঁদনী আমার বাসায় এসেছিল। তাই ধারণা করলাম, আমার মেয়েও গোসল করতে আসছে। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করে পুকুর থেকে আমার মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।’
চাঁদনীর ভাই সামিউল আলম বলেন, ‘সকালে আমি মাদ্রাসায় যাইনি। তখন বললাম বোন তোরও মাদ্রাসায় যেতে হবে না। ও বললো না আজকে মাদ্রাসায় প্রতিযোগিতা আছে। তাই মাদ্রাসায় গেলো। বাসায় এসে খাওয়া-দাওয়া করে কোথায় গেলো, তা আর দেখলাম না। এরপর হঠাৎ শুনি পুকুরে বোনের লাশ।’
মরিয়মের মামা শাহীন শেখ বলেন, ‘আজকে হঠাৎ করে পুকুরে গোসল করতে গিয়েছিল মরিয়ম। কখনও একা পুকুরে গোসল করতে যায়নি। যদিও সাঁতার জানে। সাঁতার জানার পরও কীভাবে কী হলো, বুঝলাম না।’
আমেনা হাকিম দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট মাওলানা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘চাঁদনী ও মরিয়ম মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।’
এ বিষয়ে পদ্মা সেতু উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ আলমগীর হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে ডুবে মারা গেছে তারা। এ নিয়ে স্বজনদের অভিযোগ নেই। তাই বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’