ইবিতে ব্যাংক কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

অগ্রণী ব্যাংক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার এক কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

তাৎক্ষণিক ওই কর্মকর্তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী কর্মকর্তার নাম মঈনুল হোসেন। তিনি ইবি শাখায় প্রিন্সিপাল অফিসার (ম্যানেজার লোন) পদে কর্মরত রয়েছেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়া বড় আইলছাড়ার দক্ষিণপাড়ায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক নারীর সঙ্গে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে আজ বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় ওই নারী পালানোর চেষ্টা করলে তাকে প্রধান ফটক থেকে কয়েকজন যুবক ও নিরাপত্তাকর্মীরা আটক করে প্রশাসন ভবনে নিয়ে আসেন। পরে তাকে প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা কর্মীরা ইবি থানা পুলিশে সোপর্দ করেন।

ওই নারীর দাবি, ভালোবেসে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে তিনি বিয়ে করেন ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল। কিন্তু ওই কর্মকর্তা তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান। দীর্ঘদিন যাবৎ তাকে অবহেলা করে আসছিলেন। এ দ্বন্দ্বের জের ধরে আজ দীর্ঘসময় তর্কবিতর্ক হয়৷ একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হলে তার গলায় ছুরি ধরেন ওই ব্যাংক কর্মকর্তা। নিজে আত্মরক্ষা করতে গেয়ে ছুরি লাগে ওই কর্মকর্তার গলায়। এ সময় ওই নারীর হাতও কেটে যায়।

এ সময় ওই কর্মকর্তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া নার্স মমতাজ বলেন, ‘হঠাৎই তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় আসেন। আমরা অবস্থা খারাপ দেখে তাৎক্ষণিক গলায় ব্যান্ডেজ করে দিয়েছি৷ পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি।’

অগ্রণী ব্যাংক ইবি শাখার ম্যানেজার হাসিবুজ্জামান হাসিব বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী এলে থানায় মামলা করা হবে।’

এদিকে, অভিযুক্ত নারীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি সেল প্রধান ফটক থেকে আটক করে ইবি থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়৷ এ সময় ইবি থানার ওসি আননূর যায়েদ বিপ্লব বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ক্যাম্পাসে চলে আসি। তাকে আটক করা হয়েছে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যাবে।’