বৃস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে দেবীগঞ্জের সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের কালিরডাঙ্গা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি, দুটি পিস্তল, তিনটি ম্যাগজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি ছুরি ও তিনটি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় কিলিং মিশনে ব্যবহৃত একটি বাইসাকেলও উদ্ধার করা হয়।
আজ শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেবীগঞ্জ থানা চত্বরে পুলিশ প্রশাসন আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হুমায়ুন কবির এসব তথ্য জানান। তদন্তের স্বার্থে প্রেস ব্রিফিংয়ে গ্রেফতারকৃতদের হাজির করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
প্রেস ব্রিফিং এ জানানো হয়, মঠের পুরোহিত জজ্ঞেশ্বর হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জেমএমবির পাঁচ সদস্য অংশ নেয়। এদের মধ্যে সরাসরি অংশ নেওয়া তিন জনকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে। পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা সবাই জামায়াতুল মুজাহেদিনের (জেএমবি) সদস্য বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
এর আগে ঘটনার পরই আটককৃত তিন জেমএমবি সদস্যের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই অভিযান চালানো হয়। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া অপর দুই জনকেও শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে বলে ডিআইজি জানান।
ডিআইজি জানান, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, দেশের উন্নয়নের গতিধারাকে বাধাগ্রস্থ করা এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই জঙ্গী সংগঠন এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে পুলিশ সুপার মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীন মোহাম্মদ, এএসপি সার্কেল মো. কফিলউদ্দিন সহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সকালে দেবীগঞ্জের সন্ত গৌড়ীয় মঠের পুরোহিত জজ্ঞেশ্বর দাসাধিকারীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে সেবায়েত গোপাল চন্দ্র দাসাধিকারী গুলি করে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় ওই দিনই দেবীগঞ্জ নিহত যজ্ঞেশ্বরের বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ রায় এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে উপ পরিদর্শক মজিবর রহমান বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। দুটি মামলাতেই অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর পরই গ্রেফতারকৃত খলিলুর রহমান, বাবুল হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
/এইচকে/এফএস/