রংপুরে ১৪ ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি

সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে রংপুরে ছাত্রলীগের ১৪ নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। অব্যাহতি দেওয়া নেতাদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

রবিবার রাতে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাব্বির আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক এ কে এম তানিম আহসান চপল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি রংপুরে বিভাগীয় ছাত্রলীগের সভাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি, অপরাধমূলক এবং সংগঠনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগ এ জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অব্যাহতি দেওয়া নেতারা হলেন– জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি বেলাল হোসেন আপেল ও ইয়াসিন আরাফাত শুভ, বদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস তুফান ও ময়নুল ইসলাম শাকিল, পীরগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রায়হান সরকার, গঙ্গাচড়া উপজেলা ছাত্রলীগের উপ-ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক শাকিল আহমেদ। 

কাউনিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য রেজোয়ান রিংকু, পীরগাছা উপজেলার ৩নং ইটাকুমারী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহান মিয়া, তাম্বুলপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক, কৈকুড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লিমন মোল্লা, গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আল মেহেদী হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ আর আরমান খান, দফতর সম্পাদক রাশেদ খান আবির এবং বড়বিল ইউনিয়নের  ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি সাগর ইসলাম।

এদিকে, অব্যাহতি দেওয়া ১৪ জনের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত শুভ এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করার অভিযোগে মামলার আসামি। গত ২৬ জুন দিনগত রাতে জেলার পীরগঞ্জ থানায় তাকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন ভিকটিম গৃহবধূ।

এ ব্যাপারে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাব্বির আহমেদ জানান, ছাত্রলীগ একটি আদর্শিক সংগঠন। এখানে অন্যায়, সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপ করলে কোনও রেহাই নেই। সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।