প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন শুক্রবার এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, হবিগঞ্জ-সিলেট আসনের মহিলা এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর অনুরোধের পর প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়ের (পিএমও) মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ারকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের প্রেক্ষিতে আনোয়ার বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে চার শিশুর পিতাদের জমিতে ঘর এবং সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি স্কুল রুম ও লাইব্রেরি নির্মাণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বাহুবলের ইউএনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, পার্শ্ববর্তী উত্তর ভাদেশ্বর গ্রামে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয় চার শিশু। এরা হলো সুন্দ্রাটিকি গ্রামের ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮) ও তার চাচাতো ভাই আবদুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০), আবদাল মিয়ার ছেলে মুনির মিয়া (৭) এবং তাদের প্রতিবেশী আবদুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০)।
স্থানীয় লোকজন ১৭ ফেব্রুয়ারি কারাঙ্গী নদীর তীরে তাদের মৃতদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ বালুচাপা অবস্থায় নিহতদের গ্রামের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূর থেকে ওই শিশুদের আংশিক গলিত লাশ উদ্ধার করে।
পঞ্চায়েত গঠন নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষিতে ওই শিশুরা ভিলেজ পলিটিক্সের নির্মম শিকার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আবদুল আলী বাগাল, তার ছেলে জুয়েল মিয়া ও রুবেল মিয়া, আজিজুর রহমান আরজু ও বশির মিয়াসহ ৬ জনকে আটক করেছে।
পরে বিচারিক হাকিম কৈশিক আহমেদ খন্দকারের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে জুয়েল মিয়া ও রুবেল মিয়া।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে র্যাব সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে এ মামলার অন্যতম প্রধান আসামি বাচ্চু মিয়া। সূত্র: বাসস।
/এফএস/